রাড্ডা স্বাস্থকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মামলায় দুজন কারাগারে, জামিন পাননি ৫ আসামি
চার দিন আগে রাতের বেলায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাড্ডা কার্যালয়ের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সেইসঙ্গে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুজন হলেন মিন্টু ও মিলন। মিন্টুকে রোববার দুপুরে মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে থেকে এবং মিলনকে রোববার রাতে শাহ আলী থানার গুদারাঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অপরদিকে শাহ আলম, আতিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন ও কামরুল ইসলাম নামে পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।
মিন্টু ও মিলনকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই আতোয়ার রহমান। মিলনের পক্ষে তার আইনজীবী ঈসমাইল হোসেন জামিন আবেদন করে আগামীকাল মঙ্গলবার শুনানি করতে চান। মন্টুর পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না।
বিচারক মিলনের জামিন শুনানির দিন মঙ্গলবার রেখে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একই আদালতে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান হোসাইন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়। দুদিন আগে রোববার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান ও রাব্বি নামে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য।
গত ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ওই সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।
সংস্থাটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাতুড়, লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। হামলাকারীরা এক্সক্যাভেটর নিয়ে একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানের আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যান। নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যান হামলাকারীরা।
