দুই মামলায় সাধন চন্দ্রের জামিন চেম্বার আদালতে বহাল
সাবেক এই খাদ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দুদকের করা। বাকি ১০টি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা।
জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দিয়ে আগামী ২২ নভেম্বর আপিল বিভাগে নিয়মিত শুনানির দিন ধার্য করেন।
আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার থানায় হওয়া দুটি মামলাতেই হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। মোহাম্মদপুরের মামলার এজাহারে সাধন চন্দ্রের নাম ছিল না। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
প্রথম মামলাটি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপাকে হত্যার অভিযোগে। অন্যটি মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস ফয়সালকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলা। উভয় মামলাতেই হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল।
প্রথম মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলিতে নিহত হন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপা। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা হয়।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাতে সাবেক মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, রমিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডও দেয়। রিমান্ড শেষে ১০ অক্টোবর সাধন চন্দ্রকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর আবারও তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পরে এ হত্যা মামলায় হাই কোর্টে আবেদন করে তিনি জামিন পান।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস ফয়সাল। চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৮৪ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলাতেও হাই কোর্ট থেকে জামিন পান সাধন চন্দ্র।
সাবেক এই খাদ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা। বাকি ১০টি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা।
