০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

আবরার হত্যা: মোর্শেদের মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা চায় ২ মানবাধিকার সংগঠন

“আরও কিছু পরিবার নথিপত্র দিয়েছে, সেগুলো দেখে অন্যদের সাজা নিয়েও বিবৃতি দেওয়া হবে,” বলেন এভিএনের নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান জোহান।

আবরার হত্যা: মোর্শেদের মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা চায় ২ মানবাধিকার সংগঠন

আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে ২০২৫ সালে রায় দেয় হাই কোর্ট। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 06:25 PM

Updated : 07 Nov 2026, 06:25 PM

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের সাজা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দুই মানবাধিকার সংগঠন।

তাদের দাবি, আবরারকে মারধরের ঘটনায় মোর্শেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই। তাই তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণ, ব্যক্তিগত অপরাধের দায়, বয়স ও সাজা কমানোর প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠন দুটি হলো ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি) এবং অল ভিকটিমস অ্যান্ড ভেটেরান্স নেটওয়ার্ক (এভিএন)।

ওএমসিটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক; এভিএন বাংলাদেশভিত্তিক। ওএমসিটি বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশে কাজ করে।

আরেক সংগঠন এভিএনের স্লোগান হলো, ‘রাষ্ট্রীয় সহিংসতার জনগণের দলিল’। সংগঠনটি ওয়েবসাইটে তাদের পরিচিতিতে নিজেদের রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে।

আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও শুধু মোর্শেদের সাজা পুনর্বিবেচনার আহ্বান কেন, সেই প্রশ্নে এভিএনের নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান জোহান বলেন, “মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার সুযোগ আমরা পেয়েছি।

“এ বিষয়ে তার পরিবারের লিখিত সম্মতিও নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের মামলার নথিপত্র ও আপিলের যুক্তি পেতে দেরি হয়েছে। তাই আপাতত মোর্শেদের মামলাটি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছি।”

জোহান বলেন, আরও কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে নথিপত্র পাওয়া গেছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদের বিষয়েও বিবৃতি দেওয়া হবে।

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরার ফাহাদকে। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। রায় হয় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর। রায়ে ২০ আসামির সর্বোচ্চ সাজা হয়।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আবরার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। অন্যদিকে আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে শুনানি শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছর ১৬ মার্চ রায় ঘোষণা করে হাই কোর্ট। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা ২০ আসামির সবাই বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। মোর্শেদ ছাড়া বাকি ১৯ জন হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।

আগামী ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে মোর্শেদের মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে তুলে ধরে বুধবার সংগঠন দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলে, “শুনানিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার চাপ থেকে মুক্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।”

বিবৃতিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, তার পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে শাস্তির কঠোরতা কিংবা জনরোষ প্রশমনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না।

“সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে সংগঠন দুটি জানায়, এই শাস্তি অপরিবর্তনীয় এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।”

জোহান বলেন, “আমরা সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। ন্যায়বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাটা খুব জরুরি। আমাদের চাওয়া তো বেশি কিছু নয়, ন্যায়বিচার।”

পুরনো খবর:

আবরার হত্যার ৭ বছর: আপিল বিভাগে বিচারের অপেক্ষা