Published : 01 Jun 2026, 09:37 PM
জ্বরের পর বুকে ব্যথা অনুভব করায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পল্লবীতে ধর্ষণ-হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবা হান্নান মোল্লা।
সোমবার তার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “গত পাঁচ দিন ধরে জ্বর ছিল। আজ (সোমবার) হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় তিনি হাসপাতালে আসেন। ধারণা করছি তার ভাইরাল ফিভার (জ্বর) হয়েছিল, সে কারণে হার্ট কাভার চেষ্টে তিনি ব্যথা অনুভব করছিলেন।”
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালটিতে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেন আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী।
রামিসার বাবার শারিরীক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি পুরোপুরি ভালো আছেন। এতটাই ভালো আছেন যে এখনই বাসায় যেতে চাইছেন। কিন্তু আমরা তাকে আরো দুই-তিনদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে চাই।”
হান্নান মোল্লার কোনো শারিরীক জটিলতা না থাকার কথাও বলেন তিনি।
গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের নিজেদের ভাড়া ফ্ল্যাটের পাশের ফ্ল্যাটে শিশু রামিসার কয়েক টুকরো লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
সেই ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামিসাদের বাসায় গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। সেই ধারাবাহিকতায় পাঁচ দিন তদন্ত করে ২৪ মে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
সোমবার রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রামিসার বাড়িতে এদিন জামায়াত আমিরের যাওয়ার খবরে সেখানে গিয়ে তার বাবার অসুস্থতার কথা জানতে পারে পুলিশ।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, “জামায়াত আমির আসবেন শুনে আমরা রামিসার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শুনেছি তার বাবা বুকে ব্যথা অনুভব করায় সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।”
পরে বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি শিশু রামিসা আক্তার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি তুলে বলেন, “বিচারকে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলতে অভিযুক্তরা এখন আরো নাম বলছে। এটি একটি চক্রান্ত।”