Published : 28 Jul 2025, 12:33 AM
বাংলাদেশে আইকনিক মসজিদ নির্মাণে ২৪৪ কোটি টাকা দেবে সৌদি সরকার। আটটি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকারের রাজকীয় অনুদান হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে।
রোববার সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ এ তথ্য জানান বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এরইমধ্যে কয়েকটি বিভাগ থেকে মসজিদের জমির প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বাকিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। সৌদি অর্থায়নে আইকনিক মসজিদ নির্মাণের কাজ ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শুরু করা হবে।
“বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও বন্ধুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এদেশের প্রায় ৩২ লাখ লোক সৌদি প্রবাসী। তারা রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছেন। ঠিক একইভাবে সৌদি সরকারের ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নে সেদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”
আগামীতে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজে হাত দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের অর্থায়নে এসব মসজিদ নির্মাণ হবে।
তবে পরে সৌদি আরব জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের এ প্রকল্পে তারা কোনো অর্থ দেবে না। তারপর বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে মডেল মসজিদ নির্মাণ শুরু করে।
২০২২ সালে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়, মডেল মসজিদে তারা অর্থায়ন না করলেও কয়েকটি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে তারা টাকা দিতে রাজি।
দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) ১৪তম সভায় এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় এখন আইকনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগটি গতি পেয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবছর সুন্দর ও সাবলীল হজ ব্যবস্থাপনার জন্য ধর্ম উপদেষ্টা সৌদি সরকার এবং সেদেশের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।
একইসঙ্গে তিনি আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় ওয়াশরুমের সংখ্যা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মিনার তাঁবুতে বিছানার আকার বাড়ানোর বিষয়ে উপদেষ্টা সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত এসব প্রস্তাবের বিষয়ে তার দেশের সরকার এবং হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার আশ্বাস দেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে সৌদি সরকারের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাৎকালে তারা দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আগামীতে আরো মজবুত ও সুসংহত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া হজযাত্রীদের লাগেজ পরিবহনে আরএফআইডি ট্যাগ সংযোজন, ঢাকায় অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক ও হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. মঞ্জুরুল হক এসময় উপস্থিত ছিলেন।