Published : 08 Aug 2024, 11:59 PM
এগার দফা দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে থাকা নন ক্যাডার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের দাবি পূরণে একটি কমিটি করে দিয়েছেন আইজিপি।
গত দুদিন ধরে আন্দোলনে থাকা এই পুলিশ সদস্যরা বৃহস্পতিবারও কাজে যোগ দেননি। অচলাবস্থা নিরসনে আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন।
সেখানে পুলিশের কনস্টেবল থেকে এসপি পর্যন্ত পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়ে আট সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আহত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা এবং তাদের প্রস্তাবগুলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করবে।
১১ সদস্যের কমিটির চার সদস্য ক্যাডার কর্মকর্তা এবং বাকি চারজন নন ক্যাডার।
কমিটিতে রয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (এসপি পদমর্যাদার) নাজমুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত এসপি জুয়েল রানা, ডিএমপির সহকারী কমিশনার (ফোর্স) সৌম্য শেখর পাল, সিআইডির ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম, ডিএমপির সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান জুয়েল, সিআইডির এসআই জহিরুল হক এবং ডিএমপির কনস্টেবল বরকত উল্লাহ।
কমিটির সদস্য এসপি সাইফুল ইসলাম সান্তু বলেন, বৈঠকে ১১ দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় এসব বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তারা প্রতিবেদন দেবেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। আইজিপি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং দ্রুততম সময়ে তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তাদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার জন্য আইজিপির নির্দেশে কমিটি করা হয়।
গেল জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরে তুমুল গণআন্দোলনে রূপ নিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। সরকারপতনের পর বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হন। আতঙ্কে বেশিরভাগ থানা পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে গত দুদিন ধরে ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন পুলিশের নন ক্যাডার সদস্যরা। ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ জেলাগুলোর পুলিশ লাইন্সে পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়ছেন তারা। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং সরকার পতনের পর দায়িত্ব পালনের সময় এত পুলিশ হতাহতের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন।
তাদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে –
• বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার করতে হবে।
• পুলিশ কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের অধীনে কাজ করবে না, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশের জনগণের সেবা তথা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে।
• সারাদিনে ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করানো যাবে না।
• অধঃস্তন কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ বা মৌখিক আদেশ পালন করতে পারবেন না।
• অধঃস্তন কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মত পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
• বার্ষিক নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন করাতে হবে।
• ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মত অধঃস্থন কর্মচারীদের সোর্স মানি দিতে হবে।
• বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে ১০ তারিখের মধ্যে টিএ এবং ডিএ বিল পরিশোধ করতে হবে।
• নতুন বেতন স্কেল প্রণয়ন করতে হবে।
• ঝুঁকিভাতা বাড়াতে হবে।
• পুলিশ হেডকোয়ার্টারস থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেকটি পুলিশ লাইন্স, থানা, ফাঁড়ি, গার্ড, ক্যাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি বৃহস্পতিবার বিকালে রাজারবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বাহিনীর আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি সাবেক আইজপি এটিএম আহমেদুল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের প্রয়োজন।
তিনি বিগত সরকারের আমলে রেশন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তা আবার চালু করার দাবি জানান।