Published : 22 Jun 2026, 12:37 AM
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ‘ব্যাপক প্রস্তুতি’ নেওয়ার কথা বলেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ঢাকায় ১৮ হাজার পুলিশ থাকবে বলে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ঢাকার দুই শতাধিক জায়গায় পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানোর কথাও আছে বিজ্ঞপ্তিতে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে অরাজকতা হতে পারে, এমন আলোচনা আছে কয়েক দিন ধরেই।
দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি 'জরুরি বার্তা' মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়। তাতে সারাদেশে পুলিশকে 'প্রয়োজনীয় সতর্কতার' পাশাপাশি 'নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা' গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া আছে।
জরুরি বার্তায় বলা হয়, মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে। ফলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে 'সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে'।
তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর 'ক্ষুব্ধ হতে পারে' বলেও আশঙ্কা করা হয়।
এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনার মধ্যে রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে ‘ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতির’ কথা বলল ডিএমপি।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি।
“প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও মাঠে থাকবে। এর মধ্যে ডিবি এবং সিটিটিসি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।
“পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আগাম নাশকতা বা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাবে।”
ডিএমপি বলেছে, “যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া ঢাকার ৪টি প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ রাখা হবে, যেন ডাক পাওয়া মাত্রই তারা অ্যাকশনে যেতে পারে।”
আন্দোলনের মুখে চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশে ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা।
এর তিন দিন বাদে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকা অন্যদলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
আওয়ামী লীগের বাকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন আত্মগোপনে। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তারা নেই।
আন্দোলন দমাতে শত শত মানুষকে হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চলছে, আর সেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে মাঝেমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর আসে। এসব মিছিল থেকে কখনো ধরপাকড়ও করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরো পড়ুন