Published : 23 Jun 2026, 02:21 PM
দুই দশক আগের কিশোরগঞ্জের এক হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া আট আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া ওই খালাসের রায় কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
নিহত জামানের বোন হাওয়া আক্তারের করা এক রিভিশন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাস্টিস আতোয়ার রহমান ও বিশ্বজিৎ দেবনাথ মহোদয় আমাদের শুনানিতে সন্তুষ্ট হইয়া রুল দিছেন এবং আসামীদের নিম্ন আদালতে সারেন্ডারের অর্ডার দিছেন। এখনো অর্ডারটা ফুল আমাদের হাতে আসে নাই।
“সাধারণত প্র্যাকটিস হলো, যদি আদালত কোনো কন্ডিশনাল অর্ডার না দিয়ে জেনারেল অর্ডার দেয়, তখন এট দ্য টাইম অব অর্ডার এটা ইফেক্টিভ হয়।”
নিম্ন আদালতের রায়ের বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন, “২০০৭ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানাধীন দেওপাড়া গ্রামে জামান—রফিক গংদের দ্বারা নিহত হন। জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলা এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। নিহতের মৃত্যুর কারণ হলো।
“ছুরি দিয়া শরীরে আঘাতের ফলে হেমোরেজ পেনিট্রেটিং ইনজুরি হয় এবং জামান মারা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে চার্জ ফ্রেম করে এবং এইটা হইতে ২০২৫ এর জুনে রায় হয় । কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত প্রথম সেশন জাজ রায়ে সমস্ত আসামিদেরকে খালাস দিয়ে এই রায় দেন।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৩ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার দেওপাড়া গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তরুণ জামান। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে নিয়ামতপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে।
হামলার সময় রফিক নামের এক আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে জামানের বাম বগলের নিচে ধারালো অস্ত্র (কিরিচ) দিয়ে সজোরে আঘাত করে এবং অন্যান্য আসামিরা রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় করিমগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও নিহতের বাম বগলের নিচে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দিলে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। এই আট আসামি হলেন— রফিক, রাকিব, সিদ্দিক, রঞ্জু মিয়া, দুঃখু মিয়া, রানু মিয়া, বিউটি আক্তার ও টুটন মিয়া ওরফে আনোয়ার হোসেন।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩ জুন কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং সাক্ষীদের বক্তব্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণ দেখিয়ে সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতের দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে গত মে মাসে হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করেন মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নিহতের বোন হাওয়া আক্তার ওরফে তাহসিনা আক্তার। সেই আবেদনের শুনানি নিয়েই মঙ্গলবার আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশসহ রুল জারি করল হাই কোর্ট।