Published : 20 Sep 2025, 04:59 PM
বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা খাটা মুশফিক উদ্দীন টগরকে অস্ত্র মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
লালবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম জি এম ফারহান ইশতিয়াক তাকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
টগরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই মতিয়ার রহমান বুলবুল টগরকে ৫ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে টগরকে গ্রেপ্তারের করা পর র্যাব বলেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন মানুষকে সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। র্যাব-৩ এর ডিএডি মো. খালেকুজ্জামান শুক্রবার বিকালে মামলা করেন এবং টগরকে লালবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, “প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনার বিষয়ের প্রাথমিক সত্যতা পরিলক্ষিত হয়। এ আসামির মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ তথা তাকে নিয়ে অভিযান করলে মামলার মুল রহস্য উদঘাটন, উদ্ধার করা অস্ত্রের তথ্য, তার কাছে আরও অস্ত্র আছে কি না এবং ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তা উদঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।”

র্যাব যা বলছে
র্যাব বলেছে, আজিমপুরের চায়না বিল্ডিং গলির একটি বাসায় মাদক বিক্রির খবরে র্যাব সেখানে যায়। তিন রুমের একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন ৫০ বছর বয়সী টগর। পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা ‘স্বীকার করেন’। পরে তার কক্ষ থেকে বিদেশি রিভলবার, ম্যাগাজিন, গুলি, মুখোশ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৩২ এমএম ১টি রিভলবার, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি কাঠের পিস্তলের গ্রিপ, ১৫৫ রাউন্ড .২২ রাইফেলের গুলি, ০১টি ৭.৬২ এমএম মিসফায়ার গুলি, ১টি শর্টগানের খালি কার্তুজ, মানুষের মুখায়বের দুটি মুখোশ ও ২টি মোবাইল জব্দ করা হয়।
এসব অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি টগর। ‘মুখোশ পরে’ ঢাকা শহরের বিভিন্ন তিনি ‘অপরাধ করে আসছিলেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
টগর সনি হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০০২ সালের ২৪ জুন। ২০২০ সালে কারামুক্তির পর থেকে তিনি ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন’ বলে র্যাব জানিয়েছে।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।
বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচারে নিম্ন আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত।
২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
মুকি পরে পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়, সাগরও পলাতক রয়েছেন। আর টগর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন, যাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করল র্যাব।
আগের খবর:
বুয়েট ছাত্রী সনি হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টগর গ্রেপ্তার
সনি হত্যায় কারাভোগ শেষে 'অস্ত্র বাণিজ্যে' জড়ান টগর: র্যাব