Published : 26 Jan 2026, 01:35 PM
সরকার কোনো অন্যায় আদেশ পালন করতে বললে রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তা মানতে বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আট পুলিশ সদস্যের সাজার রায় ঘোষণার পর সোমবার দুপুরে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এক সাংবাদিক জানতে চান, পুলিশকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হয়। অনেকের আপত্তিও আছে যে, তারা আসলে কী করবে। এই সাজা পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী বার্তা দেয়?
জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, “এই মেসেজটা হচ্ছে সবার জন্য। সরকারের কোনো অন্যায় আদেশ পালন করতে রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা- কর্মচারী বাধ্য নয়। প্রত্যেক কর্মকর্তা- কর্মচারীকে আইন অনুযায়ী আচরণ করতে হবে।
“ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আপনাকে বেআইনি কাজ করতে নির্দেশ দেয়, আপনি সেটা অবলাইড নন যে আপনি সেটা করবেন। কারণ আপনার প্রত্যেকটা কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে আদালতের কাঠগড়ায়।”
রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের যত সম্পদ আছে, সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা-পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।”
পর্যবেক্ষণে কী কী বিষয় উঠে এসেছে, এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি তাজুল বলেন, “পর্যবেক্ষণে অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ বলেছেন যে, সবচেয়ে যারা বেশি অ্যাট্রোশাস (ভয়ংকর) কাজ করেছে, যারা কমান্ড দিয়েছে, অনেকে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল, তারা হয়তো এই গ্রুপের মেম্বার ছিল, কিন্তু সবাইকে মামলায় জড়ানো হয়নি।
“যারা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল, তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল।”
ফাঁসির রায়ের ফলে ভবিষ্যতে কি এসব কর্মকাণ্ড কমবে বলে মনে করেন? এমন প্রশেনর উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, “ভবিষ্যতের কথা আমরা জানি না। আপিল করার সুযোগ স্টাচুটরি টাইম পার হলে আইনে সাধারণত যেভাবে বলা আছে এবং রায় যেভাবে কার্যকর হয়, সেভাবেই হবে।”