Published : 04 May 2026, 08:16 PM
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার মধ্যে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
‘অবৈধ হিসাবে’ চিহ্নিত করে করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেখুন, ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ওদের ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। তো, ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে।
“বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হোক, আমাদের দিক থেকে আমাদের ওদের সাথে পানির ইস্যু আছে, পুশব্যাকের যে ইস্যুটা বললেন, ওটা আছে। আরও অনেক ইস্যু আছে। সেই ইস্যুগুলোতো আমাদের রয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে এগিয়ে আছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আর তাতে ভারতের এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে। ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার এবং পরে বর্তমান বিজেপি সরকার অনেক চেষ্টা করেও তৃণমূল নেত্রী মমতাকে রাজি করাতে পারেনি।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে সরকার ও বিএনপির অবস্থান নিয়ে আরেক প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, “প্রথম কথা বিএনপির এখানে কোনো মনোভাব থাকার কথা না। এখানে একটি নির্বাচন হচ্ছে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, ওদের গণতন্ত্রের ব্যাপার।
“তবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যেহেতু বাংলাদেশে অনেকদিন পরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমরা সবসময় যেরকম বলে আসছি যে, আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, সেরকম আমরা চাইব যে আমাদের আশেপাশে ভারতসহ সকল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্রের বিজয় হোক।”
কলকাতায় ক্ষমতার পালাবদলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, সেই প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্র নীতি ওভাবে কাজ করে না, একটি দেশের ফরেন পলিসি একটি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হয়।
“আমাদের দেশের ফরেন পলিসি, আমরা আগেই বহুবার বলেছি, আজকেও বলছি যে, প্রধানমন্ত্রীর যে ফরেন পলিসি, বাংলাদেশ ফার্স্ট ফরেন পলিসিতে চলব আমরা। অন্যান্য দেশে যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের ফরেন পলিসি একই থাকবে।”
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে–এমন খবরের প্রসঙ্গ টেনে করা প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন আমরা আশা করব যে, উনারা যেরকম কথাবার্তা উনারা বলছেন, সেটাই কার্যকরী হবে।
“এবং আমাদের সাথে যে আলাপ আলোচনা হয়েছে, আপনারা রিসেন্টলি দেখেছেন যে, আমাদের ফরেন মিনিস্টার ভারত সফরে গিয়েছিলেন, সেখানেও উনারা ভিসার ব্যাপারে পজিটিভলি বলেছেন। তো, আমরা আশা করব যে টুরিস্ট ভিসাসহ সকল ভিসায় স্বাভাবিক হবে এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত আবার স্বাভাবিক হবে।”
কবে নাগাদ ভিসা স্বাভাবিক হতে পারে বলে ঢাকা আশা প্রকাশ করছে–এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, “শিগগিরই হবে।”
ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ঢাকা ‘আশাবাদী’ বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, “এখনতো চুক্তিটা শেষ হচ্ছে। সেটা নিয়ে অবশ্যই আমাদের আলোচনা হবে, আমাদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আছে, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জড়িত; ভারতের সাথে ওগুলোর আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতেই আবার চুক্তি নবায়ন হবে।”