৮ বছরে আরও শোচনীয় হয়েছে রোহিঙ্গাদের অবস্থা: জাতিসংঘ
“অব্যাহত সহিংসতায় আরও অনেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন, যেখানে আগে থেকেই প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন,” বলেন ডুজারিক।
ভিটেছাড়া হওয়ার আট বছরে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনযাপনের আরও অবনতি ঘটেছে বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিভেন ডুজারিক।
বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রার আট বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
বিবৃতিতে ডুচারিক বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য বেসামরিক লোকজন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির ‘ক্রসফায়ারে’ আটকা পড়েছেন। এর ফল হিসেবে জোরপূর্বক ভিটেছাড়া হওয়াসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা।
“অব্যাহত সহিংসতার কারণে বাধ্য হয়ে আরও অনেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন, যেখানে আগে থেকেই প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।”
মুখপাত্র ডুজারিক বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।”
২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়।
বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর থেকে কক্সবাজার ও উখিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাঁশ আর প্লাস্টিকের খুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে।
জাতিসংঘ সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এই হত্যা ও নির্যাতনকে চিহ্নিত করেছিল ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে বর্ণনা করে।
