Published : 06 Oct 2025, 05:29 PM
বাংলাদেশে গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; এ নিয়ে চলতি বছর মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৬৮৯ জনে।
গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ২১৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজন মারা গেছেন তাদের একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন ছিলেন নারী। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৩৫, ৮৫ এবং ২৮ বছর।
এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন সেপ্টেম্বরে; মৃত্যুও ছিল সর্বোচ্চ। সে মাসে ১৫ হাজার ৮৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন; মৃত্যু হয় ৭৬ জনের।
চলতি অক্টোবর মাসের পাঁচ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
এর আগে জুলাই মাসে ১০ হাজার ৬৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন, জুনে ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং অগাস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী ভর্তি হন।
জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়। তার আগে জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯ জন ও অগাস্টে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। মার্চ মাসে কারো মৃত্যুর তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১১ জন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৪২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৪৭৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫১ জন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬২২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।