Published : 01 Dec 2025, 11:56 PM
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়া থেকে ‘স্কুলিং পদ্ধতি’ বাদ দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার গণজমায়েত কর্মসূচি ডেকেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষা ভবন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে ‘সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদ’।
আন্দোলনে নামা শিক্ষকরা বলেছেন, প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর প্রশাসনিক ও শিক্ষক পদসহ সর্বস্তরে কেবল বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
তোপখানা রোডে শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, মঙ্গলবার দেশের সব সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং করা হবে। পরের দিন পাবলিক পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সারা দেশের সব সদস্যের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশ করা হবে। আর দাবি উপেক্ষা করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু হবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার ঢাকার সাত কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রক্রিয়া গুছিয়ে এনেছে। তবে এ নিয়ে কলেজগুলোর স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ এর প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন।
আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
গত ২৭ জানুয়ারি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো, তখন চলছিল ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়।
পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের পর গত ২৭ জুলাই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ৩ থেকে ১০ অগাস্ট আবেদন নিয়ে ২২ ও ২২ অগাস্ট অনুষ্ঠিত হয় তিনটি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হলেও সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়নি। কথা ছিল ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভর্তি শেষ করে ক্লাস শুরুর। তবে ভর্তির সময় বাড়িয়ে ২৩ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল, তা হয়নি। ৩০ নভেম্বর ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিলেও কলেজগুলো শিক্ষক পদে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরোধিতায় সে ঘোষণাও বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় দ্রুত ক্লাস শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এ দাবি প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মাহফিল আরা বেগম বলেন, "ক্লাস শুরু করার দাবি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শিক্ষার্থীসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। সাত কলেজের শিক্ষকরা চান না, শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি দিনও নষ্ট হোক।
"শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ও অপেক্ষমাণ। কিন্তু খসড়া অধ্যাদেশ শিক্ষকদের সেই এখতিয়ার দেয়নি। কারণ খসড়া অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সাত কলেজের শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন। চূড়ান্ত অধ্যাদেশ, সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারিত না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন।"
প্রস্তাবিত মডেলের 'সংকট' তুলে ধরে তিনি বলেন, "সরকারি কলেজগুলোর সক্ষমতা সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক সমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি কলেজে আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ ফি-নির্ভর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে। ফলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে।"
মাহফিল আরা বেগম বলেন, "আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাডেমিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে কলেজ কর্তৃপক্ষের শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর কোনো এখতিয়ার নেই।"