সড়কে ৮০ শতাংশ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে: শাজাহান খান

শাজাহান খান বলেন, "সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা টোলের নামে টাকা উঠানো হচ্ছে। এটা বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছে টাস্কফোর্স"

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 03:00 PM
Updated : 27 July 2022, 03:00 PM

সড়ক পরিবহন খাতে ৮০ শতাংশ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতা শাহাজান খান।

বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কফোর্সের পঞ্চম সভায় তিনি এ দাবি করেন।

টাস্কফোর্সের সদস্য শাজাহান খান বলেন, “১১১টি সুপারিশ নিয়ে টাস্কফোর্স কাজ করছে। অনেক সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে আবার অনেক সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে।

“ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সভায় চালকদের ডোপ টেস্টের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে নেওয়ার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী।

“চালকদের ডোপ টেস্টের সেন্টার কম। তাই ডোপ টেস্ট সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো এবং চালকদের টেস্ট যেন তাড়াতাড়ি করা হয় সেটার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছি। ডোপ টেস্ট করতে ৯০০ টাকা লাগে, এই টাকাও কমানোর কথা বলেছি।”

তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএর মোট জনবল ৯৩১ জন, এর মধ্যে ১২২টি পদ শূন্য রয়েছে। তাই পাঁচ মাসে বাকিদের নিয়োগ দিতে বলেছে টাস্কফোর্স।

অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশে প্রয়োজন ৮ হাজার সদস্য, কিন্তু তাদের জনবল রয়েছে ২ হাজারের কিছু বেশি। হাইওয়ে পুলিশের সদস্য বাড়ানোর কথাও উঠেছে সভায়।

মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের বিষয়টি সভায় উঠেছে জানিয়ে পরিবহন খাতের এই নেতা বলেন, “১১১ সুপারিশের মধ্যে বলা আছে কী মানের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে, বিষয়টি বিএসটিআইকে দেখতে বলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা টোলের নামে টাকা উঠানো হচ্ছে। এটা বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছে টাস্কফোর্স। সভায় অবৈধ ড্রাইভিং স্কুল বন্ধ করে আরও কিছু স্কুল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

পরিবহন খাতে শ্রমিক নিয়োগে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, "মালিক-শ্রমিক নিয়োগপত্র নিয়ে বিরোধ আছে। মালিক ও শ্রমিকদের বসে এটা সমাধান করতে বলা হয়েছে।”

সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই খাতে শৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে টাস্কফোর্সের এই সদস্য জানান, ৬২ হাজার চালককে ‘অনজব’ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। আরও দেওয়া হচ্ছে।

‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোড়দারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়ন সংক্রান্ত ১১১ দফা সুপারিশ মালা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সে’র পঞ্চম সভায় এসব কথা বলেন শাজাহান খান।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটি ৭টি সভার মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে ১১১টি সুপারিশ করে। এর মধ্যে আশু করণীয় ৫০টি এবং স্বল্পমেয়াদী ৩২টি ও দীর্ঘমেয়াদী ২৯টি কারণ উল্লেখ করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে গঠন করা হয় এই টাস্কফোর্স।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব মো. এনায়েত উল্লাহ, পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক