Published : 07 Oct 2025, 05:24 PM
জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের মধ্যে নিহত কয়েকজনের লাশ আশুলিয়া থানার ওসির নির্দেশে ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এক কনস্টেবল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় দেওয়া সাক্ষ্যে এ কথা বলেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম (৪৬)।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাশেদুল ঢাকার আশুলিয়া থানায় ড্রাইভার কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ওইদিন তার কোনো ডিউটি ছিল না। থানা ভবনের চতুর্থতলায় অবস্থান করছিলেন। বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার সময় থানা ভবনের জানালা দিয়ে দেখেন, নিচে লোকজন হৈচৈ করছে। এ সময় গুলির শব্দও শোনেন।
সেখানে থাকা নিরাপদ না মনে করে নিচে নেমে আসেন এবং থানার মূল গেটের বাম দিকে রাস্তার উপর একটি ভ্যানের উপর লাশের স্তূপ দেখতে পান।
কনস্টেবল রাশেদুল বলেন, “আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি সায়েদ স্যার বলেন, ‘রাশেদ আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন’। পাশে থাকা নীল রংয়ের ব্যানার দিয়ে লাশগুলো ঢেকে দেই।”
ওসি সায়েদের সঙ্গে পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, এএসআই বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল মুকুল চোকদার, ডিবি ইন্সপেক্টর আরাফাতও ছিলেন বলে সাক্ষ্যে রাশেদুল বলেন।
তিনি বলেন, “তারপর থানার পশ্চিম পাশে আটতলা একটি ভবনের নিচে আনুমানিক ১ ঘণ্টা অবস্থান করি। ওই ভবনের নিচ তলার একটি ছেলে, যার বাড়ি জামালপুর, তাকে আমি অনুরোধ করি–আমাকে একটি পাঞ্জাবি ও টুপি দাও। আমি ওই পাঞ্জাবি ও টুপি পরে কাইচা বাড়ি রোড হয়ে জামগড়া রুপায়নে বন্ধুর বাসায় অবস্থান করি।
“পরে শুনতে পাই, আশুলিয়া থানার ভ্যানভরতি লাশগুলো পুলিশের গাড়িতে তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে।”
রাশেদুল ইসলামের বাড়ির জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মেদুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। তিনি এ মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী।