Published : 05 Apr 2026, 03:52 PM
প্রায় এক যুগ আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। তবে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দেশ দেননি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ শাহরিয়ারের কবিরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিএম মেহদী হাসান।
তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “আমার মক্কেল এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং সমাজের একজন মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি।
“কারাবিধি অনুযায়ী বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে তিনি কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।”
প্রসিকিউশনের পক্ষে ডিভিশনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “আমাদের এ মামলায় দুই মাস আগে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারি হয়েছে। তিনি ডিভিশন পেলে অন্যরা কেন পাবেন না?
“এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উচিত আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া। সেখানে না পেলে তারা আদালতে আসতে পারেন।”
শুনানি শেষে আইনজীবী মেহদী হাসান বলেন, “কবি-সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আমরা আজ একটি আবেদন করেছি। ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা আশাবাদী আদালত পরে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।”
এদিকে, শাপলা চত্বরের এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ৭ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।
এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার কবিরসহ ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাজির করা অপর পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
নারী উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলনের পাল্টায় রাজপথে নেমে সংগঠনটি বেশি পরিচিতি পায়। শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে তারা।
সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। পরে রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়। শাপলা চত্বরের ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন বলে সে সময় এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’।
যদিও তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১১।
দীর্ঘ এক যুগ এ ঘটনা নিয়ে কোনো বিচারিক পদক্ষেপ না থাকলেও, চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।
ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।