Published : 06 Apr 2026, 11:59 PM
বিচারাধীন একটি মামলার রায় পক্ষে এনে দেওয়ার কথা বলে এক বিচারপ্রার্থীর ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে।
সোমবার আবুল হাসানকে তার পদ থেকে সরকার অব্যাহতি দিলেও এর কারণ তুলে ধরা হয়নি। এদিনই তার বিরুদ্ধে মো. সারোয়ার খালেদ নামে এক আবাসন খাতের ব্যবসায়ীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।
সারোয়ার অর্থ আত্মসাতের ওই অভিযোগ করেন কয়েকদিন আগেই।
নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এএজি মো. আবুল হাসানকে জিজ্ঞেস করা হলে অভিযোগের বিষয়ে ‘কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি’।
সারোয়ার সিলিকন রিয়েল এস্টেট (প্রাইভেট) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন।
সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা একটি রিট পিটিশনে ২০২৪ সালের ২৬ মে হাই কোর্ট সিলিকন রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে রুল ও নির্দেশনা জারি করে। সেই রুল তিন মাসের মধ্যে খারিজ (ডিসচার্জ) করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাসান ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা নেন। পূর্ব পরিচিত আরেক আইনজীবী মো. ফখরুল ইসলামের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাকে এই নগদ টাকা দেওয়া হয়।
টাকা নেওয়ার এক বছর পার হলেও আবুল হাসান মামলায় কোনো পদক্ষেপ নেননি দাবি করে সরোয়ার আরও অভিযোগ করেন, বারবার তাগাদা দিলেও আবুল হাসান বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে অন্য আইনজীবী নিয়োগের জন্য তার কাছ থেকে মামলার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হলেও তিনি ওই ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আর ফেরত দেননি। আপসের চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
সারোয়ার বলেন, শুরুতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে আবুল হাসান তার আস্থা অর্জন করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে হাই কোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
তার ভাষ্য, তিনি আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধারদেনা করে একাধিক কিস্তিতে বিপুল অর্থ দেন। লেনদেনের বেশিরভাগই নগদে হয়েছে এবং আদালত সম্পৃক্ত এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তার অফিসের কর্মীরাও এই লেনদেনের সাক্ষী রয়েছেন এবং লেজারে তারিখসহ টাকার হিসাব আছে।
আইনজীবী আবুল হাসানের যোগাযোগ ছিন্ন করার কথা তুলে ধরে ব্যবসায়ী সরোয়ার বলেন, “পরবর্তীতে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি স্পষ্ট হলে আমরা সরাসরি বৈঠকে বসি এবং টাকা ফেরত ও এনওসি দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি এনওসি দিলেও টাকা ফেরত দেননি এবং এরপর থেকে যোগাযোগ এড়িয়ে যাচ্ছেন।”
গত রোজার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলেন সরোয়ার।
নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “সংশ্লিষ্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হলে তিনি ওই অর্থের বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
“আমি দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে এই অভিযোগের বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আমি সংশ্লিষ্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলি। অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব আমার কাছে সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয়নি।”
গত বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন কার্যক্রম চলাকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন আরও দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী। সেই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় এবার ‘আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে’ নিয়োগ বাতিল হল আরেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের।
আরও পড়ুন-