১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়: স্বীকৃতির দাবিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ

দুপুরের দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়: স্বীকৃতির দাবিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ
ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জমায়েত শেষে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2024, 09:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:19 AM

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করতে গিয়ে বাধার মুখে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

শনিবার সকালে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জমায়েত শেষে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

দুপুর ১২টা থেকে ইন্টার কন্টিনেন্টালের সামনের রাস্তায় আটকে দেওয়ার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত মিন্টো রোডের দিকে যাতায়তের রাস্তা বন্ধ থাকে। এ কারণে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর এবং কাকরাইল থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত রাস্তায় চারপাশ ঘিরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

রাস্তা আটকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, 'দাবি মোদের একটাই, অনলাইনে আবেদনকৃত সকল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিও চাই'।

“প্রতিবন্ধী শিক্ষক কেন থাকবে বঞ্চিত? এখন চাই এমপিওকরণের গ্যারান্টি' 'শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য নয়, প্রতিবন্ধী শিক্ষকিদের অধিকার চাই' 'এক দফা এক দাবি, এমপিও চাই এখনই'- এমন নানা স্লোগান তুলে ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন মঈন বলেন, “আমাদের প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছে। আমরা সমাজের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করি। সমাজের অবহেলিতদের নিয়ে কাজ করি। আমাদের একটাই দাবি, স্বীকৃতি চাই।” 

“আমাদের দাবি একটাই, আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে ও এমপিও ভুক্ত করতে হবে। আমরা প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করলেও আমাদের পরিবার চলে না। আমাদের দিকে কেও তাকায় না।”

তিনি বলেন, “২০১৮ সালে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল, সেখানে অনলাইনে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করি। কিন্তু আমাদের এমপিও তো দূরের কথা স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয় নাই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকব।”

মো. মেহেদী হাসান নামে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমরা সমাজের অবহেলিতদের নিয়ে কাজ করি। কিন্তু আমরাদের যে একটা স্বীকৃতি দরকার, এটা কারও মাথায় নাই। দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর যাবৎ দাবি করে যাচ্ছি কিন্তু কেউ কর্ণপাত করে না। সরকারেরও উচিত আমাদের দিকটা দেখা। আমরা যেন ফ্যামিলি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি, সে ব্যবস্থাটা করা।

“আমাদের দাবি একটাই, আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে ও এমপিওভুক্ত করতে হবে। আমাদের দিকে কেও তাকায় না।”

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দাবি নিয়ে ঢাকার রাজপথে নামছে নানা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই ধারায় শনিবার দেখা গেল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে বিক্ষোভ।