Published : 22 Jul 2025, 12:15 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাইদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে।
গত ৩০ জুন আবু সাইদ হত্যা মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় এ পর্যন্ত ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। পলাতক থাকা ২৪ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম আদালতকে বলেন, এ মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বাকি ২৪ জন পলাতক আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তারা হাজির না হওয়ায় এখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা যায়। এর আগে তাদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।
এরপর ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেয়। এতে ২৪ আসামির রাষ্ট্রের তরফে চার আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়- প্রত্যেক ছয়জনের জন্য একজন করে। আগামী ২৮ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন রাখা হয়।
একপর্যায়ে গ্রেপ্তার ছয় আসামির মধ্যে দুজন তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেবেন কি না, জিজ্ঞেস করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। তখন তারা জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরে তারা এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে জানাবেন।
তখন প্রধান কৌঁসুলি বলেন, তারা যদি আইনজীবী নিয়োগ না দেন তাহলে তাদের জন্যও রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দেবে।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন।
সেদিন সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করার মধ্যে তাকে গুলি করার ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন থেকে সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এরপর একের পর এক মৃত্যু, সরকারি সম্পত্তিতে হামলা, আগুনের মধ্যে ১৯ জুলাই কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার। তুমুল গণ-আন্দোলনের মধ্যে ৫ অগাস্ট পতন হয় টানা সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসন। শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান।