Published : 08 May 2026, 12:59 PM
ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী ও তার মালিকানাধীন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মামলাটি করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মামলায় ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছে বলে ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে’।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি বলছে, বনানী এলাকায় ১৪তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড ‘চুক্তির শর্ত ভঙ করে অনুমোদন ছাড়াই’ ২৮তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
এ বিষয়ে নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গত শতকের আশির দশকে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে নূর আলীর ব্যবসায়িক উত্থান ঘটে। গেল চার দশকে আবাসন, জ্বালানি, হোটেল ও হসপিটালিটি, হাসপাতাল, কৃষি, শিক্ষা, আর্থিক খাত, প্রযুক্তি, মিডিয়াসহ নানা খাতে তিনি ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে প্রতারণার মাধম্যে ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে গুলশান থানায় মামলা করেছে সিআইডি।