Published : 20 Sep 2025, 10:43 PM
ক্যান্সার ‘জয়ের’ গল্প শুনিয়ে অভিনেতা আবুল হায়াত এই রোগে আক্রান্ত হলেও ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা ও চিকিৎসা করানোর কথা বলেছেন।
শনিবার ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, তিনি ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন, চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসক, সেবাদাতা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে সহায়তা করেছেন।
‘রবিপথ থেকে অগ্নিপথ: প্রোস্টেট ক্যান্সার জয়ের গল্প’ শীর্ষক এই আয়োজনে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, মরণব্যাধি হলেও আগে থেকে ক্যান্সার ধরা পড়লে ঝুঁকি কম থাকে, এ কারণে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর ক্যান্সারের ‘স্ক্রিনিং’ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (সিসিসিএফ)।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটক ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল হায়াত।
সিসিসিএফ এর সাধারণ সম্পাদক রোকসানা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন, জুয়েল আইচ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল, ডা. অসীম সেনগুপ্ত।

আবুল হায়াত বলেন, তার বাবাও প্রোস্টেট ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তার মা, বোনও ক্যান্সারের কাছে হার মানেন। প্রোস্টেটে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তিনি শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তবে ধীরে ধীরে তিনি সেটি কাটিয়ে ওঠেন। এ কাজে তাকে চিকিৎসক, পরিবার সহায়তা করেছে। এ কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত হলেও ইতিবাচক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “আল্লাহ বলেছেন চেষ্টা করতে, তিনি পাশে থাকবেন। সে হিসেবে আমি চেষ্টা করছি, এখন পর্যন্ত করে যাচ্ছি। রোগ আসবে, তবে ইতিবাচক থাকতে হবে। ইতিবাচক থাকতে হলে, এ কারণে ইতিবাচক থাকতে হবে। একটা কথা আছে ‘আই ওয়ান্ট টু গৌ হ্যাভেন, বাট আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডাই’।
“ওই চিন্তা থেকে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি, চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসক, ‘কেয়ার গিভার’, আমার পরিবারের লোকজন আমাকে অনেক সহায়তা করছেন।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক নাসরিন চৌধুরী বলেন, প্রোস্টেট ক্যান্সার শুরুতে শনাক্ত করতে পারলে, শুরুতে চিকিৎসা শুরু করা যায়। এ কারণে ‘স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
“আমরা যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঝুঁকি অনুযায়ী একটা স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু করতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য খুবই ফলপ্রসূ হবে। কারণ আমাদের দেশে প্রোস্টেট ক্যান্সারের হার আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে।”
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অসীম সেনগুপ্ত বলেন, ‘স্ক্রিনিংয়ের’ মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ রোগ ঠেকানো যায়, অথবা অল্পতে ধরা যায়। চিকিৎসার পাশাপাশি যারা রোগীকে সেবা দেন তাদের বিষয়টিও জরুরি।
“যাদের ঝুঁকির বিষয় আছে তাদের ‘স্ক্রিনিংটা’ ৫০ এর আগেই করে ফেলা ভালো। এতে রোগটা সেরে যাওয়ার পর্যায়ে পাই, চিকিৎসার বিকল্প, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে যায়।
আর আমরা রোগীকে হয়তো কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসা দেই, কিন্তু পুরো সময়টা রোগী বাসায় থাকেন। এ কারণে রোগীর ‘কেয়ার গিভারদের’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”
অভিনেতা আফজাল হোসেন বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে যে রোগ (ক্যান্সার) নিয়ে কথা হচ্ছে তার চেয়ে অতি মারাত্মক একটা রোগে মানুষ ভুগছে সেটা হচ্ছে পাশের মানুষের খোঁজ খবর না নেওয়া, বিচ্ছিন্নতা। এ কারণে সময় সময় সবার পাশের থাকার চেষ্টা করতে হবে।
“আমরা একটা সম্পর্কে বাস করি, যেটা পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান। পরস্পরকে অনুভব করা। যে সময়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি, এখন আমরা কেউ কাউকে অনুভব করতে চাই না। যখন আমরা কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না, বিচ্ছিন্নতা রোগে ভুগি। বিচ্ছিন্নতা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রোগ, তখন আমরা একটা মানুষের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দুঃখপ্রকাশও করতে পারি না। এ কারণে আসুন সম্পর্ককে অনুভব করি এবং থাকতে (বেঁচে থাকতে) সবাইকে অনেক ভালোবাসি।“