Published : 09 Mar 2026, 06:04 PM
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে গ্রেপ্তারদের কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশন। সেটা পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।”
হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তথ্যে ফয়সালরা ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদেরকে বাংলাদেশে কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ‘শুরু’ হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমরা আমাদের কাছে যা তথ্য আছে, সে তথ্যটা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়।
“তো এই সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলর অ্যাক্সেস চেয়েছি। তা পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব।”
শামা ওবায়েদ বলেন, “হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা সকলেই চাই। যখন হাদি হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, তখনও আমরা সে বিচার চেয়েছিলাম।
“এবং তখনও এরা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা একটা কথা তখনও আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা শুনেছিলাম। তো এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, আমরা আমাদের কূটনীতির মাধ্যমে ভারতের সরকারের সাথে আমরা যোগাযোগ করব এবং যাতে এই বন্দিরা বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ফেরত আসতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করব।”
আসামিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেটা আমরা এখনও কিছু বলতে পারছি না, যেহেতু এটা একটা অন্য দেশের আইন আদালতের ব্যাপার। যেহেতু মাত্র এই ঘটনাটা ঘটেছে, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে চেষ্টা করছি। কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছি। আমরা রুলস অব প্রসেজার্স আমাদের ফলো করতে হবে; সেটাই আমরা করছি।

“তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদেরকে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।”
কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, “কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে আমাদের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস অনুযায়ী আমাদের কর্মকর্তারা অবশ্যই তাদের বন্দিদের সাথে… তাদের পরিচয় ওরা শনাক্ত করতে পারবে, যাচাই করতে পারবে এবং সত্যতা যাচাই করে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ তখন আমরা নিতে পারব।”
কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে উত্তরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “না, কলকাতার পক্ষ থেকে এখনো কোনো উত্তর আমরা পাইনি, আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।”
ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনরায় করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি এই প্রশ্নের উত্তর আগেও দিয়েছি, এটা চলমান প্রক্রিয়া, চলমান আছে। আমাদের সরকার মাত্র এসেছে। অবশ্যই আমরা এই ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা যারা ক্রাইম করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ এবং গত জুলাই অভ্যুত্থানে যারা মানুষ মেরেছে, শিশুদেরকে মেরেছে, নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাসহ সবার বিচারই আমরা চাই।
“যেহেতু শেখ হাসিনা ওখানে আছে, তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারটায় বর্তমান বিএনপি সরকার সচেষ্ট আছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”
ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার বিষয়ে কোনো উত্তর এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের অনেক ইস্যু আছে। আমরা ডিজেল চাচ্ছি, আমরা পানি চাচ্ছি, আমরা সীমানায় হত্যা বন্ধ চাচ্ছি, আমরা অনেক কিছু চাচ্ছি।
“ভারত সরকার থেকে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে চায়, নতুনভাবে; যেহেতু বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে, তারা নতুনভাবে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, একটা মিউচুয়াল রেসপেক্টের মাধ্যমে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
“তো তারা যে কথাগুলো বলেছে, যে স্টেটমেন্টগুলো করেছে, ভালো কূটনীতি বা ডিপ্লোমেসি যদি আমরা বজায় রাখতে চাই দুই দেশের মধ্যে, তারা সেই কথাগুলোতে তাদের আলোকপাত করা উচিত।”