Published : 19 May 2026, 01:38 PM
দুর্নীতির মামলায় ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদের ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.বি.এম শাহারিয়ারের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এছাড়া দুদকের আরেকটি আবেদনে এদিন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সদর দপ্তরের এটিএম বিভাগের কার্টোগ্রাফার আব্দুল সোবহানের স্ত্রী মিসেস সালমার আয়কর নথি জব্দেরও আদেশ দিয়েছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদের ভাই হলেন শাহারিয়ার। তার আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
আবেদনে বলা হয়, শাহারিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজান ৬০৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহিভূত সম্পদ অর্জন করর ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাকে অপরাধে সহায়তা করে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শাহারিয়ারের সকল আয়কর রিটার্নসহ রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় ৪০ একর জমি জুড়ে রয়েছে রিসোর্টটি। চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের পর ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডে’ অভিযান চালায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা বিভাগ সিআইসি।
সে সময় কিশোরগঞ্জে ওই রিসোর্টে অভিযানে নথিপত্র ও কম্পিউটার জব্দের কথা বলেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।
তিনি বলেন, হারুনের স্ত্রী, মা, ভাই ও শ্যালক এ রিসোর্টের পরিচালক। রিসোর্টের এর পাশেও বহু জমি ‘দখল ও জোর করে নেওয়ার’ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আহসান হাবিব।
আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুনের হদিস মিলছে না গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই। তার বিরুদ্ধে ‘কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
এদিকে এছাড়া সালমার আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনের সহকারি পরিচালক মাহাবুব মোর্শেদ।
ওই আবেদনে বলা হয়, মিসেস সালমা এবং তার স্বামী আব্দুল সোবহান জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৭ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখায় এবং ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৪ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করার অপরাধে দুদক মামলা দায়ের করে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিসেস সালমার নামে পরিচালিত আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।