মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজহারের রিভিউ শুনানি ৬ মে
আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় পর্যালোচনার জন্য জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের রিভিউ শুনানি হবে আগামী ৬ মে। সেদিন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি হবে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নের্তৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেন।
ওই দিন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এটিএম আজহারের পক্ষে মঙ্গলবার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদেশের পর শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ”শুনানির জন্য আজ (মঙ্গলবার) দিন ধার্য ছিল। প্রধান বিচারপতি এক পর্যায়ে বলেছেন, ’এই মামলার গুরুত্বের বিচারে ও আইনি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হওয়া দরকার।’ ৬ মে দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে রেখে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাসহ যাদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দিয়েছে সেই রায়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
”আমরা আগে বলেছি আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে কি না? তৎকালীন আপিল বিভাগ রায়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা বলেছি, এই আইনের প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে। এজন্য আইনগত এই বিষয় নিষ্পত্তির জন্যই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।”
শিশির মনির বলেন, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার হলে আমরা বিশ্বাস করি, আজহারুল ইসলাম ফাঁসির দণ্ড থেকে রেহাই পাবেন।”
শুনানির সময় আপিল বিভাগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
পরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ”৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছি। আগের সরকারের সময়ে যারা ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকে এখন মুক্ত হচ্ছেন। অথচ এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো কারান্তরীণ রয়েছেন। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমাদের প্রশ্ন এতদিনেও কেন ন্যায়বিচার মিলছে না? আমরা হতাশ নই। তবে আমরা বিস্মিত ও ব্যথিত।
”আমাদের মজলুম জননেতা আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এত বছর পরও তার মুক্তির আদেশ না পাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
কারাগারে আটক জামায়াত নেতা আজহারের মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি সারাদেশে সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছে তার দল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহার। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেয়। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি, যা এখন শুনানি করা হবে।
