১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা’ চুক্তিতে ‘আগ্রহ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে দুই দেশের যৌথ প্রয়াসের বিষয়ে আলোচনা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 May 2026, 07:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:40 PM

মানব পাচার প্রতিরোধসহ সকল ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের ব্যাপারে ‘আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

শনিবার সচিবালয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদির সঙ্গে সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে দুই দেশের যৌথ প্রয়াসের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মানব পাচারের সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন রাষ্ট্রদূত।

এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে।

তিনি বলেন, “এই চুক্তি হলে, তা মানব পাচার প্রতিরোধসহ সকল ধরনের ফৌজদারি অপরাধমূলক বিষয় আওতাভুক্ত করবে। সেই সঙ্গে এই চুক্তি দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করি।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মানব পাচার প্রতিরোধ, বাংলাদেশ থেকে চালক ও মালিসহ দক্ষ জনবল রপ্তানি এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আমিরাতের রাষ্ট্রদূত তার দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহের কথা বলেন। আমিরাতের এই বিনিয়োগের আগ্রহকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন, যারা দুই দেশের অর্থনীতিতেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, বলেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষ চালক ও মালির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষিত জনবল নিতে বিশেষভাবে আগ্রহী।”

চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

বৈঠকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ছয় মাস মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানের চালক প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের দক্ষ চালক হিসেবে আরব আমিরাতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।”

এ সময় ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ বা গালফভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন চালক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।