১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে ‘হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় পাহাড়িরা সংখ্যাগুরু থাকলেও ‘ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Sep 2024, 03:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:30 AM

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়িদের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা’।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা' ব্যানারে শতাধিক মানুষ শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। 

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে বিক্ষোভকারীরা। প্রায় ২৫ মিনিট তারা শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনস্টা চাকমা নামের একজন বলেন, “খাগড়াছড়িতে আমাদের ভাইদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা পাহাড়ে এমন রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা এর নিন্দা জানাই। কোনো আদিবাসীদের ঘর-বাড়ি জ্বালানো চলবে না।”

রিপন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে চাই। পাহাড়ে সেটলার আর সেনাবাহিনীর হামলা বন্ধ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।”

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাহাড়কে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় পাহাড়িরা সংখ্যাগুরু থাকলেও ‘ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় সমাবেশ থেকে কিছু দাবি জানিয়েছে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা’। 

এর মধ্যে দীঘিনালায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার তিন পার্বত্য জেলার জুম্ম জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ও অংশগ্রহণে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, পাহাড়ে গুলিতে নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, জুম্মদের ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধবিহার পুনঃনির্মাণ করা।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার সকালে চুরির অভিযোগে ‘গণপিটুনিতে’ মামুন নামের এক যুবককে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিলের এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরে লারমা স্কয়ারের দোকানপাটে আগুন দেয় একপক্ষ। এতে ৬০ থেকে ৭০টি দোকান পুড়ে যায় বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

পরে রাতভর গোলাগুলিতে দীঘিনালা ও সদরে তিনজনের মৃত্যুর খবর মেলে শুক্রবার সকালে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে নিহত ৩

খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের সংঘর্ষ থেকে দোকানে অগ্নিসংযোগ