Published : 19 Feb 2026, 11:27 PM
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে সাজছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রঙ-তুলিতে আঁকা হচ্ছে আলপনা, দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ভাষা সংগ্রামের গান-কবিতা-শ্লোক।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে সেখানে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে বেদী। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রঙ-তুলি নিয়ে শেষ আঁচড় দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা। এবার নয়টি আলপনা আঁকছেন তারা। কাজ শেষ হয়েছে আটটির। আরও একটি কাজ চলবে মধ্যরাতে।
গত বছর সাদা, কালো ও লাল রঙে আলপনা আঁকা হলেও এবার সাদা, হলুদ, গোলাপী ও নীল রঙে আঁকা হচ্ছে আলপনা।
এই ভিন্নতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শহীদ মিনারে আলপনা কমিটির আহ্বায়ক কাউসার হাসান টগর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর আমরা জুলাই অভ্যুত্থানকে সামনে রেখে আমাদের আলপনাগুলো এঁকেছিলাম। এবার যেহেতু বাংলাদেশ একটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে, তাই আমরা আমাদের সেই ঐতিহ্যগত যে আলপনা আছে, তাতে ফেরৎ গিয়েছি।”
শহীদ মিনারের সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে গত বছর বিভিন্ন গ্রাফিতি ফুটিয়ে তোলা হলেও এবার সেটি থাকছে না।
এর বদলে ভাষা আন্দোলন ও বীর শহীদদের স্মরণের বিভিন্ন গান, কবিতা ও শ্লোক থাকবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সাজসজ্জা কমিটির প্রধান অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে বিভিন্ন গ্রাফিতি থাকায় সেগুলো সংরক্ষণের জন্য নতুন করে কোনো দেয়ালিকা আঁকা হয়নি। তবে আমরা কাল (শুক্রবার) বেশ কয়েকটি ঝুলিয়ে দেব, যেখানে ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবসের সেই কবিতা, গান ও শ্লোক থাকবে।”
প্রতিবারের মত এবারও শহীদ মিনার এলাকায় সাজসজ্জার দেখভাল করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার শহীদ মিনারের আশেপাশের পিচঢালা সড়ককে ক্যানভাস বানিয়ে রঙ-তুলির আঁচড় দেবেন তারা।
সাজসজ্জা কমিটির প্রধান আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী কাজ করছে। আমাদের আজকে (বৃহস্পতিবার) শহীদ মিনারের সব আলপনা আঁকা হবে। শুক্রবার সকাল থেকে দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে জগন্নাথ হলের মোড় পর্যন্ত সব সড়কে আলপনা আঁকব।”

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা অর্পণ করে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শহীদ মিনার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরায় আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে ঘোষণা মঞ্চ। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, আছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রও।
শহীদ দিবস ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বসবাসকারীদের শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আবাসস্থলে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা পাস ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাবে। সকাল সাড়ে ৬টায় বের হবে প্রভাতফেরি। ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বর থেকে শুরু হওয়া প্রভাত ফেরি উদয়ন স্কুল হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবে।

যানবাহন চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে কয়েকটি সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবে রমনা ট্রাফিক বিভাগ।
বকশিবাজার থেকে জগন্নাথ হল সড়ক, চানখারপুল থেকে রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক, টিএসসি থেকে শিববাড়ী ও উপাচার্য ভবন থেকে ভাস্কর্য ক্রসিং সড়কে যান চলাচল প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তবে পলাশীর মোড় থেকে শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর, হাই কোর্ট মোড়, টিএসসি মোড় ও শহীদুল্লাহ হল মোড়ে হেঁটে চলাচল করা যাবে।