স্ত্রী-কন্যাকে হত্যা করে পুঁতে রাখে যুবক, বহাল রইল মৃত্যুদণ্ড

মামলায় বলা হয়, নাজমুল তার স্ত্রী হোসনে আরাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ৯ মাস বয়সী মেয়ে নাজনিন কান্নাকাটি করলে তাকেও একই কায়দায় হত্যা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 02:05 PM
Updated : 14 Sept 2022, 02:05 PM

স্ত্রী-কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিত্যক্ত ঘরে পুঁতে রাখার ঘটনায় পাঁচ বছর আগে বিচারিক আদালতে এক যুবককে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।

বুধবার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনে ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর এবং আসামির আপিল খারিজ করে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসনা বেগম।

২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামি নাজমুল হাসানের (৩৫)  উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর গ্রামের বড় বৈদ্য বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১০ সালের ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় নাজমুল তার স্ত্রী হোসনে আরাকে হত্যা করেন। পরে ৯ মাস বয়সী মেয়ে নাজনিন কান্নাকাটি করলে তাকেও একই কায়দায় হত্যা করেন।

পরে লাশ বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাটির নিচে পুঁতে রাখে।

এরপর ২৪ জুলাই মেয়ের সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নাজমুলের শ্বশুর আবুল কাশেম। জিডির পর ওই দিনই নাজমুলকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন নাজমুল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখান থেকে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান একই বছরের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

বিচার শেষে চাঁদপুরের বিচারিক আদালত নাজমুলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স এবং আসামির আপিল শুনানি শেষে বুধবার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে উচ্চ আদালত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক