Published : 05 Feb 2026, 10:56 PM
নির্বাচনের পর রোজার মধ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু বাংলা একাডেমির ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন প্রকাশকদের একটি অংশ।
তারা বলছেন, সেদিন বইমেলা শুরু হলে তা হবে ‘প্রাণহীন’। রোজার দিনে বইমেলা শুরু হলে পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসবে না। আর পাঠক-ক্রেতা ছাড়া বইমেলা ‘নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা’ ছাড়া আর কিছুই হবে না।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা তুলে ধরেছেন প্রকাশরা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে ‘মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়’ মেনে নেবে না প্রকাশক সমাজ। মেলার প্রাণ হল স্টলকর্মীরা, যাদের অধিকাংশই ছাত্র। সারা দিন রোজা রেখে, ইফতার ও দীর্ঘ তারাবিহ নামাজের পর হাজারো শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্টলে কাজ করানো কি অমানবিক নয়? বাংলা একাডেমি কি এই ‘মানবিক অধিকার লঙ্ঘন’ এর দায় নেবে?”
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি শুরুর কথা তুলে ধরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বলেছে, ইতোমধ্যে এ মেলা আয়োজনের প্রায় ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পর প্রকাশকের একটি অংশ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “গত দেড় বছরে কাগজ ও উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিক্রিতে মন্দায় প্রকাশনা শিল্প এমনিতেই ধুঁকছে। এই সময়ে জোর করে একটি ব্যর্থ মেলা চাপিয়ে দিয়ে প্রকাশকদের নিশ্চিত লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
“ইতোমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশকরা লিখিতভাবে রোজার মধ্যে মেলা না করার এবং ঈদের পরে মেলা আয়োজনের পক্ষে সম্মতি ও স্বাক্ষর দিয়েছেন। এই বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন করলে তা ইতিহাসের অন্যতম ‘ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন’ হিসেবে গণ্য হবে।”
২০ তারিখে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার আয়োজক প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।”
বিজ্ঞপ্তিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- আহমদ পাবলিশিংয়ের মেছবাহউদ্দীন আহমদ, কাকলী প্রকাশনীর এ কে নাসির আহমেদ, অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, অ্যাডর্নের সৈয়দ জাকির হোসাইন, ইতি প্রকাশনীর মো. জহির দীপ্তি, ইউপিএল এর মাহরুখ, প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক মো. মোবারক হোসেন, লাবনী প্রকাশনীর ইকবাল হোসেন সানু, শোভা প্রকাশের মিজানুর রহমান ও শব্দশৈলীর ইফতেখার আমিন।
পুরনো খবর-