১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2024, 09:09 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:17 PM

সরকার বদলের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে প্রধান প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এই চার প্রসিকিউটর হলেন- মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান মর্যাদা ভোগ করবেন।

আর প্রসিকিউটরদের মধ্যে মিজানুল ইসলাম অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম ও বি এম সুলতান মাহমুদ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আব্দুল্লাহ আল নোমান সহকারী অ্যটার্নি জেনারেলের মর্যাদা ভোগ করবেন।

তাজুল ইসলাম এক সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী ছিলেন। তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সেই পদ থেকে তার পদত্যাগ করার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে গঠিত এ ট্রাইব্যুনালেও পরিবর্তন আসছে। শেখ হাসিনার সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীসহ ট্রাইব্যুনালের ১৩ জন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন অগাস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। ট্রাইব্যুনালও পুনর্গঠন করা হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়ে রেখেছেন। 

স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়; আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ।

২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুটিকে একীভূত করে আবার একটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নামে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে।

এ আদালত থেকে এ পর্যন্ত ৫১ মামলার রায় এসেছে; দণ্ডিত ১৩১ আসামির মধ্যে ৯১ জনকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কয়েকশ মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েক ডজন মানুষের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য এ ট্রাইব্যুনালে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে।