Published : 28 Sep 2025, 09:35 PM
নিয়োগ বিধি সংশোধনসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
এছাড়া আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাওয়া টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচীতেও অংশ না নেওয়ার কথা বলেছেন তারা।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন’।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। টিকাদানের কাজটি ‘টেকনিক্যাল’, কিন্তু তারা ‘টেকনিক্যাল’ পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
দীর্ঘদিন ধরে এই পদমর্যাদার দাবি করার কথা তুলে ধরে তারা বলছেন, দাবিটি বাস্তবায়ন না করায় স্বাস্থ্য সহকারীরা পদমর্যাদাসহ চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপর তারা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেন। প্রতিবারই মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে ফিরে যান।
সবশেষ, চলতি বছরের ২৬ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন এক মাসের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন হবে। তবে এরপরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলো হল-
>> নিয়োগবিধি সংশোধন।
>> শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক/সমমান সংযোগ।
>> ১৪তম গ্রেড দেওয়া।
>> ‘ইন-সার্ভিস’ ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
>> ‘টেকনিক্যাল’ পদমর্যাদা দেওয়া।
>> পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড দেওয়া।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় দাবি আদায় পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ ফজলুল হক চৌধুরী রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বারবার দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে তারা নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন।
“আমরা নিরুপায় হয়ে শুক্রবার বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সভা করি। সেখানে ৬৪ জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে কমপ্লিট শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই।”
তাদের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, “১ অক্টোবর থেকে ইপিআই ও সব ধরনের কার্যক্রম বর্জনসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করব। ২৮ সেস্টেম্বর মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি এবং ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দিব আমরা।”