Published : 27 Aug 2025, 03:55 PM
সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ লায়লাকে মারধর ও হুমকি-ধামকির মামলায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান বুধবার এ আদেশ দেন।
এদিন মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ছিল। সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন লায়লা আখতার। প্রিন্স মামুনও আদালতে হাজির হন।
লায়লার পক্ষে তার আইনজীবী ইসরাত হাসান এদিন প্রিন্স মামুনের জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
তিনি আদালতকে বলেন, “আসামি প্রিন্স মামুন মামলা চলাকালে একাধিকবার মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এ বিষয়ে জিডিও করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তার জামিন বাতিলের প্রার্থনা করছি।”
প্রিন্স মামুনের আইনজীবী হাবিব উল্লাহ এর বিরোধিতা করে বলেন, “এ অবস্থায় জামিন বাতিলের কোনো কজ নাই। অভিযোগপত্র আসছে, আমরা ট্রায়াল ফেস করব। সেখানে নির্দোষ প্রমাণ করব। এই স্টেজে জামিন বাতিলটা মেইনটেবল না।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে কেন বিচারক ‘কেন জামিন বাতিল করা হবে না’ মর্মে আসামিকে শোকজ করেছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান।
এদিকে বাদীপক্ষ থেকে দুই ‘চাক্ষুস সাক্ষীকে’ অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়। তারা হলেন লায়লার বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম রাজু।
বিচারক বলেন, “আগে চার্জশিটভুক্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষ হোক। পরে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনবোধ করলে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করবে।”
এ দুই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। লায়লার জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত।
এরপর প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী হাবিব উল্লাহ জেরা করেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় বিচারক আগামি ২৯ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট জেরার তারিখ ধার্য করে দেন বলে প্রিন্স মামুনের আরেক আইনজীবী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া (জাদু) জানান।
‘ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগে এনে ২০২৩ সালের ৯ জুন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন লায়লা। পরদিন কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামুনকে।
ওই বছরের ১ জুলাই জামিনে কারামুক্ত হন মামুন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার উপপরিদর্শক মুহাম্মদ শাহজাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
সেখানে বলা হয়, “আসামি প্রিন্স মামুন ফেইসবুক আইডিসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে টিকটকার হিসেবে পরিচিতি পান। অন্যদিকে মামলার বাদী লায়লা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি বিবাহিত। প্রিন্স মামুনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে লায়লার সঙ্গে মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন মামুন।
“পরবর্তীতে তাদের প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। ঢাকায় থাকার মত প্রিন্সের কোনো বাসা না থাকয় নিজের বাসায় থাকার অনুমতি দেন লায়লা। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি মামুন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে লায়লার বাসায় এসে বসবাস করতে থাকেন। এরপর মামুন ও তার বাবা-মা প্রায়ই সেই বাসায় এসে থাকতেন।এর মধ্যে মামুন লায়লাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেন।”
এজাহারে বলা হয়, “মামুনকে একাধিকবার বিয়ের বিষয়ে বললে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ লায়লাকে ধর্ষণও করেন তিনি।”
এ বছর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।