Published : 08 Apr 2026, 01:02 PM
জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষকের শূন্য পদ ৬০ হাজার ২৯৫টি।
বুধবার সংসদে এনসিপির সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি কলেজে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদের ৬৫৬টি শূন্য রয়েছে। সদ্য সরকারি হওয়া কলেজে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদের শূন্য সংখ্যা ২ হাজার ৪১০।
এছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ খালি রয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি কলেজে প্রভাষক নিয়োগের জন্য ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম, ৪৯তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর মাধ্যমে ‘স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ কার্যক্রম’ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণে আবেদন নেওয়া হয়েছে।
সংসদে সরকার দলীয় সদস্য সেলিম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ বা জাতীয়করণের কার্যক্রম নেওয়া হয়ে থাকে।
জাতীয়করণ হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির শর্ত যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে এবং প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণকে তিনি ‘একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়’ বলে তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এ ধরণের সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারভুক্ত নয়; বরং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।”
তিনি বলেন, দেশে মোট ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ কর্মচারী কর্মরত আছেন।
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সরকার দলীয় সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতে সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও গুণগত মানোন্নয়নের নীতিতে সরকার বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, “কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়; বরং নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।”
তার ভাষ্য, সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তে দেশের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নসহ এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কার্যক্রম অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে ১২টি স্কুল ও ৮টি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
পাশাপাশি পরিচালন বাজেটের আওতায় চলতি অর্থবছরে প্রতি সংসদীয় আসনে একটি করে স্কুল, কলেজ এবং একটি বেসরকারি মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে সারাদেশের সব যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে।
সরকার দলীয় সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৯টি।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৭১৭, চট্টগ্রামে ৮১৮, রাজশাহীতে ৩৫৫, রংপুরে ৩৭, খুলনায় ৩৪১, বরিশালে ৪৫, সিলেটে ২৬০ এবং ময়মনসিংহে ২৬৬টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।''
মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ জন।
জামায়াতে ইসলামী জোটের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৯টি প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থায়নে এখনও ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
সরকার দলীয় সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে সংঘটিত যেকোন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে সরকার দলীয় সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার সংখ্যা ৭১ হাজার ৫৯১টি।
এর মধ্যে ৬০ হাজার ২৮৬টি সংস্থা বর্তমানে সক্রিয়, আর ১১ হাজার ৩০৫টি বিলুপ্ত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ২২১টি সামাজিক সংস্থাকে ১১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।