Published : 30 Nov 2025, 10:57 PM
জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট নিয়ে ‘মহড়ার’ অভিজ্ঞতা থেকে ভোটকেন্দ্র না বাড়িয়ে প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি করে গোপনকক্ষ রাখার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি।
এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠ প্রশাসন ও বিচারিক কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের একজন করে কর্মকর্তা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হয়ে কাজ করবেন।
রোববার বিকালে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট একই দিনে হবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় নিয়োগ পরিকল্পনা, সমন্বয় ও দিকনির্দেশনামূলক এ সভা হল।
ইসি সচিব বলেন, “আমাদের মূলত মনোযোগের কেন্দ্র হচ্ছে তফসিল ঘোষণার পর থেকে। কাজেই আমাদের মূলত মূল দায়িত্বটা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আরো বেশি বেগবান হবে।”
ভোটকেন্দ্র না বাড়িয়ে প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি করে গোপনকক্ষ রাখার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, “‘মক’ ভোটিংটাতে আমাদের এক্সপেরিয়েন্স যেটা, এখনো পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে যে পর্যালোচনা করা হয়েছে, সেখানে আমরা দেখেছি ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না।…কিন্তু প্রত্যেকটা কক্ষের ভিতরে গোপন কক্ষ, যেখানে আমরা ব্যালটে সিল লাগাই, সেইখানে একটা চিন্তা করা হয়েছিল প্রথমে, এখন হয়তো দুটো হবে এবং সে কারণে কিছু বাজেট বাড়বে।”
তিনের সমন্বয় চায় ইসি
নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয় তুলে ধরে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আজকে সচিব পর্যায়ের যে কর্মকর্তারা আছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে যারা এই নির্বাচনের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, সে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রণাধীন অধিদপ্তর, দপ্তর প্রধানদের সাথে আমাদের মোটামুটিভাবে শেষ বৈঠকের আগে একটা আলোচনা ছিল।”
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টিতে আনা হয়েছে, কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোট রয়েছে। আর প্রবাসীদেরকে ভোটের আওতাধীন আনা হয়েছে। এই তিন বিষয়কে নিয়ে এই অভিযাত্রায় সঠিকভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

“প্রতিটি কাজ যথাসময়ে ভালোভাবে করতে হবে। কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে, মুখের কথা হলে হবে না। কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা, এই তিনটার ভেতরে সমন্বয়টা খুব জরুরি।”
ইসির সঙ্গে সমন্বয় রাখতে মন্ত্রণালয়গুলোকে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নিয়োজিত করার জন্যও বলা হয়েছে বৈঠকে।
ইসি সচিব বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুরোধ করেছি- একজন ‘কন্টাক্ট পয়েন্ট’ দিতে, যাতে আমাদের যদি জরুরি ভিত্তিতে কোনো যোগাযোগ করতে হয় তাহলে আমরা যেন তৎক্ষণাৎ এটা করতে পারি।”
এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট দেবেন; সেক্ষেত্রে দুটো ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। নিবন্ধিত প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি ডাকের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার বা ‘পোস্টাল ভোটিং’ এর সুযোগ পাচ্ছেন।
ইসি সচিব বলেন, সরকারি ছাপাখানা থেকে ব্যালট পেপার ছাপা হবে। ‘আর্মি সিকিউরিটি প্রেস’ থেকে প্রবাসীদের ব্যালট পেপার ছাপা হবে।
“জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এর তত্ত্বাবধানে গর্ভমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস আর আর্মফোর্সেস ডিভিশন সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস তত্বাবধান করবে।”
ভোটকর্তাদের সম্মানি বাড়ছে, আতিথেয়তা নিতে বারণ
ভোটের দায়িত্বে গিয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অনেকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কোনো ধরনের আতিথেয়তা যেন না নেন-সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব বলেন, “একটা কথা আসছে-যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন, তারা দেখা যায় যে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের আতিয়েথয়তা গ্রহণ করেন। এ কথাটা আমাদেরকে বারবারই, আমাদের কানে আসছে এবং আমরা এবার বলেছি, এটা যেন কোনো অবস্থাতেই না হয়।”
এজন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতার পরিমাণটা বাড়ানো এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্বটা পালন করার জন্য অতিরিক্ত কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করা হয়েছে, বলেন তিনি।
আখতার আহমেদ বলেন, পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, তাদেরও স্পষ্ট ভূমিকা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রচার বাড়ানোর তাগিদ
এবার পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য প্রবাসীদের নিবন্ধন সহজ করা হয়েছে। যারা ভুল তথ্য দিয়েছেন তাদের জন্য ‘এডিট মুড’ চালু করার কথা বলেছেন ইসি সচিব।
ভোটকে সামনে রেখে প্রচার শুরু হয়েছে এবং তা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব বলেন, বিটিভি এবং সংসদ টিভি ব্যাপক প্রচার ইতোমধ্যে শুরু করেছে, তিনটা জিনিসের উপরে।
“সংসদ নির্বাচন, প্রবাসী ভোটিং এবং গণভোট তিনটার ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করেছি- প্রাইভেট টিভি চ্যানেল, আরও প্রচার মাধ্যম যেগুলো আছে সেগুলোতে যেন কাভারেজ ভালো হয়।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা স্থানীয়ভাবে প্রবাসীদেরকে ভোটের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহী করার বিষয়ে ভূমিকা নেবে।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নিবন্ধন অ্যাপ এ পর্যন্ত ডাউনলোড করেছেন ২ লাখেরও বেশি ভোটার। এরমধ্যে নিবন্ধন করেছেন প্রায় এক লাখ, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।
“যারা ডাউনলোড করেননি এখনো অ্যাপটা, তারা ডাউনলোড করেন। যারা অ্যাপটা ডাউনলোড করেছেন তারা নিবন্ধন করেন। এতে প্রবাসী ভোটারদের সংখ্যাটা একটা আরো ভালো হয়। তাতে আমাদের যে প্রচেষ্টাটা আছে এই ভোটের এই যে আমাদের যে উৎসবমুখর পরিবেশটা, ভালো করে এটা এনজয় করতে পারবো।”
পাঁচ বিষয়ে জোর
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আচরণবিধি প্রতিপালন থেকে এআই অপব্যাহার রোধে সচেতনতার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, যে পাঁচ বিষয়কে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে- সেগুলো হচ্ছে গণভোটের প্রচার, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন, আচারণবিধি মেনে চলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর অপব্যবহার রোধ এবং ভোটারদের সচেতন করা।
আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূল ভূমিকায় থাকবে এবার।
ইসি সচিব বলেন, নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেটা আজ সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: