Published : 28 Apr 2026, 07:33 PM
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘উগ্রবাদী সংগঠনের’ হামলার বিষয়ে পুলিশের সতর্কতার পর ‘ঝুঁকি বিবেচনায়’ সেগুলোর নিরাপত্তায় সদস্য মোতায়েন করা হলেও ‘এই মুহূর্তে কোনো আশঙ্কা’ দেখছে না র্যাব।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, “এরকম কোনো আশঙ্কা বা থ্রেট এই মুহূর্তে দেখছি না। যেটা ছিল- প্রত্যাশা করছি যে অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না।”
মঙ্গলবার ঢাকার কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা ঝুকি বিবেচনায় আমাদের সদস্য মোতায়েন রয়েছে।”
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি `উগ্রবাদী সংগঠনের’ সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করতে পারে বলে সম্প্রতি সতর্ক করে পুলিশ সদর দপ্তর। বৃহস্পতিবার বাহিনীর ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই বার্তায় সুনির্দিষ্ট করে উগ্রবাদী সংগঠনটির নাম বলা হয়নি। তবে সম্প্রতি ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামে ওই সংগঠনের এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
‘নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ এ বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ইসতিয়াকের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ এর অধিনায়ক খালিদুল বলেন, “যেকোন ঝুঁকি, যেকোন হুমকি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। আমাদের আওতাভুক্ত এলাকায় যে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে, সরকারি অফিস এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে ভবন বা স্থাপনাগুলো আছে সবগুলোর নিরাপত্তা প্রদানে টহল ও গোয়েন্দা দল নিয়োজিত করেছি। আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়োজিত রয়েছে।”
এসময় তিনি সোমবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-২ এর অভিযানে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দেন। তিনি বলেন, তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি একনলা বন্দুক, ৩৭ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগজিন, দুইটি চাপাতি ও ১ লাখ ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, এরমধ্যে একটি বিদেশি পিস্তল চব্বিশের ৫ অগাস্ট মিরপুর মডেল থানা থেকে লুট করা হয়। শাহআলী থানা এলাকা থেকে ফোরকান আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে এ পিস্তল এবং চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার ফোরকান পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা, রামপুরা থানায় হত্যা মামলা এবং জালকাঠির রাজাপুর থানায় ডাকাতির মামলা রয়েছে।”
অপর এক অভিযানে মোহাম্মদপুরের তুরাগ হাউজিং এলাকা থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি রিভালবারসহ আব্দুর রহমান ওরফে রহমত উল্লাহকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যমতে বসিলা সিটি হাউজিং এলাকা থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া চানমিয়া হাউজিং এলাকা থেকে নুর হোসেনকে (৫০) ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আব্দুর রহমান ও রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তথ্য থাকার কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
অপরদিকে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন ও ৩৩ রাউন্ড ৭.৬৫ গুলিসহ মনিরুল ইসলাম ওরফে রাডার মনিরকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
তার বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা, একটি হত্যা মামলা এবং একটি হত্যা চেষ্টার মামলা থাকার তথ্য দিয়েছে র্যাব।
এছাড়া মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে ছিনতাইকালে মো. আমিন এবং নূরনবীকে ‘হাতেনাতে’ দুইটি চাপাতিসহ গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র্যাব।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা খালিদুল দাবি করেন ৫ অগাস্ট পরবর্তী কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, এমন কোনো ‘অপরাধ বা এমন কোনো উদ্যোগ’ তারা নেননি।
মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মাদক, ছিনতাইকারী, কিশোরগ্যাং নিয়ে আমরা যথেষ্ট কনসার্ন। ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময় এখানে প্রায় ১৫০০ ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করেছি। অনেকে আবার ফিরে আসছে আইনি মারপ্যাচের মাধ্যমে। তারা ফিরে এসে আবার অপরাধ করছেন, এমনও হয়েছে একই অপরাধী দুইবার তিনবার করে ধরে বিচারে সোপর্দ করেছি।
“কোন অপরাধী যতবারই অপরাধ করবে তাদেরকে ছাড় দেব না। একই অপরাধ বারবার করলে, তার বর্ধিত সাজার একটা বিধান আছে। প্রত্যাশা করি, অপরাধীরা বারবার অপরাধ করে তার সাজার মেয়াদটাকেই সে প্রকার প্রকারান্তরে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এটা এটা অবশ্যই তার নিজের ক্ষতি সে নিজে করছে।”