Published : 21 Nov 2025, 12:06 AM
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল ও পানগাঁওয়ে নৌ টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তি বাতিল করে সেই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কবি, শিল্পী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক নাগরিক।
বিবৃতিতে তারা বলেছেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। বন্দরের মত কৌশলগত সম্পদ নিয়ে চুক্তি করার আগে চুক্তির শর্ত প্রকাশ করতে হবে। সর্বজনের সম্মতি লাগবে। আগামী নির্বাচনে যে সংসদ গঠিত হবে সেখানে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে।”
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনিশ কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে সোমবার চুক্তি করে সরকার। একই দিন পানগাঁওয়ের নৌ টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয় সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি মেডলগের সঙ্গে।
এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করে জনসমাজের মতামতের জন্য চুক্তির খসড়া প্রকাশ করার আহ্বান করা হয়েছে শতাধিক নাগরিকের বিবৃতিতে।
সেখানে বলা হয়, “সন্দেহজনক তাড়াহুড়া, অনিয়ম এবং গোপনীয়তার মাধ্যমে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছ ইজারা দেওয়ার চুক্তি করা হল এবং তার জন্য বেছে নেওয়া হলো শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন।
“লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তি প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ও অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারীদেরকে যুক্ত করা হয়নি। তারা চুক্তির বিষয় ও শর্ত নিয়ে অবহিত নয়—যা বিস্ময়কর এবং উদ্বেগজনক।”
নিউমুরিং টার্মিনালের প্রসঙ্গে বলা হয়, “সেখানেও একইরকম অস্বচ্ছতা ও তাড়াহুড়া দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন হল দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এরকম তাড়াহুড়া এবং গোপনীয়তার সঙ্গে করতে কেন অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগী? এতে জনমনে এসব চুক্তি নিয়ে অনিয়মের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান সংবাদমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছে- অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, লেখক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস, কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, কামরুল হাসান মামুন, দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা আখতার সোবহান মাসরুর, মোস্তফা ফারুক, কামাল হোসেন বাদল, লেখক ও অধ্যাপক আজফার হোসেন, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা নূরুল আলম আতিক, লেখক ও সম্পাদক রাখাল রাহা, লেখক ও সংগঠক ফিরোজ আহমেদ, শিক্ষক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাহা মীর্জা, শিক্ষক ও অনুবাদক জি এইচ হাবীব, কবি ও সংগীতশিল্পী অরূপ রাহী, সাংস্কৃতিক সংগঠক বীথি ঘোষ, গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, শিক্ষক স্বাধীন সেন, সৈয়দ নিজার, মামুন আল রাশীদ, শিক্ষক ও নাট্যকার সামিনা লুৎফা, শিক্ষক গোলাম সারওয়ার, লেখক ও সংগঠক বাকী বিল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী।
শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা, মাহির আহনাফ হোসেন, গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, জায়েদ সিদ্দীকি, পরিবেশকর্মী মিজানুর রহমান, রেজাউর রহমান লেনিন, পারভেজ আলম, আরিফুজ্জামান তুহিন, নাহিদ হাসান, কল্লোল মোস্তফা, ফারুক সাদিক, আরিফ রহমান, তুহিন খান, মানজুর আল মতিন, রাজীব দত্ত, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, মীর হুযাইফা আল মামদূহ, শেখ নাছির, আফজাল হোসেন, সৈকত আমীন, ধ্রুব সাদিক, ফেরদৌস আরা রুমী, খন্দকার সুমন, সজীব তানভীর, আলেয়া খাতুন, কাজী জাহেদ ইকবাল, আবু তৈয়ব হাবিলদার, অলাত এহ্সান, হুমায়ূন শফিক, সামিউল আলম রাসু, কবি সোয়েব মাহমুদ, মো. আলমগীর কবির, রোজারিও তালুকদার, জাহিদ জগৎ, দেলোয়ার জাহান, ব্রাত্য আমিন, সৈয়দ ফাইয়াজ আহমেদ, মারজিয়া প্রভা, আহমেদ মওদুদও বিবৃতি দিয়েছেন।
এ ছাড়া রেদওয়ান বাশার, কায়েস মাহমুদ স্নিগ্ধ, তপু মজুমদার, মুহম্মদ নাহিন রহমান, উম্মে ফাতেমা তাননুভা, অনুপম দেবাশীষ রায়, জিয়া হাশান, তানিম কবির, ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ, মুরশীদ সেলিন, আফজালুল বাসার, চিনু কবীর, আব্দুল্লাহ নাদভী, ইমদাদুল হক খান, জালিস মাহমুদ, এ এইচ এম শাহীন, শহীদুল ইসলাম সবুজ, আবু বকর মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন, আবুল কালাম আল আজাদ, আকরাম খান, রাশেদ শাহরিয়ার, ডা. নাজমুস সাকিব, সুশান্ত সিনহা সুমন, মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, রবিউল করিম নান্টু, অজিত দাস, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, মোজাম্মেল হক, ইসহাক সরকার, আরিফুল হাসান, ডা. তন্ময় সান্যাল, ডা. মো. গোলাম রব্বানী, শামীম ইমাম, শবনম হাফিজ, ছায়েদুল হক নিশান, মো. হারুন অর রশিদ, মোশাহিদা সুলতানা, জামসেদ আনোয়ার তপনও রয়েছেন বিবৃতি দাতাদের তালিকায়।
আরও পড়ুন-
লালদিয়া-পানগাঁওয়ে '১০ বছর করমুক্ত সুবিধা পাবে' ২ বিদেশি কোম্পানি
লালদিয়া টার্মিনালে বিদেশি কোম্পানি: লাভ কী, সমালোচনা কেন?