Published : 14 Aug 2025, 08:34 PM
জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যাচেষ্টার মামলায় ই-ক্যাবের সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রমাণ মেলেনি এবং মিলবেও না’ বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।
ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এমন কোনো ছবি, ভিডিও, ইমেইল, ব্যাংক লেনদেন, ফোনালাপ কিংবা অন্য কোনো নথি নেই, যা ওই হত্যাচেষ্টার মামলায় শমী কায়সারের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।”
গত বছরের ৫ নভেম্বর রাতে উত্তরার বাসা থেকে আটক করা হয় শমী কায়সারকে। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উত্তরা পূর্ব থানার ওই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাই কোর্টে যান শমী কায়সার। শেষমেশ গত ১২ মার্চ জামিন পান তিনি।
এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল আজমপুরের কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় আদালত। এ মামলাতেও সোমবার জামিন পেয়েছেন এ অভিনেত্রী। তবে এখনও কারামুক্তি পাননি তিনি।
তার এ জামিনের আদেশ আসার পরের দিন ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন বার্গম্যান।
তিনি লিখেছেন, “শমী যদি জামিনে মুক্তি না পান, তাহলে গত ১০ মাসে তিনি যে অবিচারের শিকার হয়েছেন, তার সঙ্গে আরও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবিচার যুক্ত হবে।”
বার্গম্যান লিখেছেন, গত ১০ মাসে তাকে আটকে রাখার পেছনে পুলিশ, বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দুটি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
“এর একটি হলো, তিনি ‘আলো আসবেই’ নামের একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের অংশ ছিলেন, যেখানে আরও অনেক নামকরা অভিনেতা ছিলেন। দ্বিতীয়ত, গত ১ অগাস্ট বিটিভি ভবনের সামনে তিনি সরকারের সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছিলেন।”
হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ে বার্গম্যান লিখেছেন, “সেখানে তিনি অপরাধমূলক কোনো বার্তা পাঠিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
“আর বিটিভির সামনে গত বছরের ১ অগাস্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ১২ দিন আগের (১৮ জুলাই) হত্যাচেষ্টার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।”
এ সাংবাদিক লিখেছেন, ৪ অগাস্ট আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গেও শমী কায়সারের সম্পৃক্ততা নেই।
“তিনি ১ থেকে ৪ অগাস্ট পর্যন্ত দেশের বাইরে ছিলেন। গুলি চালানোর ঘটনার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে তিনি দেশে ফেরেন।”

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানানো একং সরকারের পক্ষে (১ অগাস্ট) বক্তব্য দেওয়ার কারণেই মূলত তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
“কোনো রাজনৈতিক দলকে, এমনকি দলটি যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনও করে থাকলেও তাদের প্রতি সমর্থন জানানোটা কোনো অপরাধ নয় এবং এটি কাউকে ১০ মাস বন্দি করে রাখার ন্যায্যতা দেয় না।”
ফেইসবুক পোস্টের শেষদিকে তিনি লিখেছেন, “শমী কায়সারের সঙ্গে যা ঘটেছে কিংবা ঘটছে, তা দুঃখজনকভাবে আওয়ামী লীগের আরও অনেকের সঙ্গেই ঘটছে।
“অপরাধ করা কোনো সরকার বা দলকে সমর্থন করাটা যদি কাউকে গ্রেপ্তার বা কারাবন্দি করার ন্যায্যতা দেয়, তাহলে বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক শ্রেণীকেই কারাগারে যেতে হবে।”
গত ৫ অগাস্টে সরকার পতনের পর ১৪ অগাস্ট দেশের ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন শমী কায়সার।
শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সার ও লেখক, গবেষক, শিশু সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সার দম্পতির সন্তান শমী কায়সার নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। পরে তিনি প্রযোজনায়ও নাম লেখান।
শমী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি ছিলেন। হয়েছিলেন এফবিসিসিআই পরিচালকও।
তিনি আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।
আরও পড়ুন
হত্যাচেষ্টা মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেলেন শমী কায়সার