ট্যুর প্যাকেজের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

বুকিং মানি নিয়ে অফিস বন্ধ করে গা-ঢাকা দিত চক্রটি। পরে আবার নতুন নামে ফেইসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইট খুলে আবার শুরু করতে প্রতারণা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 12:33 PM
Updated : 5 Dec 2023, 12:33 PM

দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

ডিবি বলছে, গ্রেপ্তার সাইফুল আলম ওরফে অপু, আহাদ আলম ওরফে তালহা ও মো. আমিনুল ইসলাম দীর্ধদিন ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। 

এই চক্রের খপ্পড়ে পড়ে গত এক বছরে দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছেন। অপু ও তার চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তারে খবরে বহু ভুক্তভোগী গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ভিড় করেন। 

সোমবার গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ একটি ল্যাপটপ, ১৪টি পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ১৫টি সিমকার্ড, ২টি ল্যান্ডফোন, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি সিপিইউ ডেক্সটপ, পাঁচটি এটিএম কার্ড, ছয়টি ব্যাংক চেক জব্দ করা হয়। 

মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টু রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। 

যেভাবে প্রতারণা 

ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘ট্রিপকার্ড’ নামের এই ট্যুর অপরেটর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজে কম খরচে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের বিজ্ঞাপন দিত। তারা বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় হোটেলে বুকিং, এয়ারপোর্ট পিকআপ, ড্রপ, গাইডের মাধ্যমে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের প্যাকেজ ঘোষণা করত। এক সঙ্গে ৪০ জনের ভিসা ও বিমানের টিকিট কাটাসহ সব কাজ নিজেরাই করার আশ্বাস দেওয়া হত বিজ্ঞাপনে। 

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, ধানমণ্ডিসহ অভিজাত এলাকায় অফিস নিত প্রতিষ্ঠানটি। 

হারুন অর রশীদ বলেন, “সাইফুল আলম কথিত এই ‘ট্রিপকার্ড’ নামের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ দিয়ে বিজ্ঞাপন দিত। ট্যুরে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত টাকার ৪০ শতাংশ বুকিং মানি হিসেবে নেওয়া হত। বুকিং মানি প্রতারকরা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করত। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের ট্যুর প্রসেসিংয়ের জন্য অফিসে ডেকে ট্যুর প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা নিত। 

“এভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে অফিস পরিবর্তন করে ফেলত তারা। দুই মাস আত্মগোপন থেকে আবার অন্য নামে ফেইসবুকে পেইজ ও ওয়েবসাইট তৈরি করে আবারও প্রতারণা করত।” 

তিনি বলেন, সাইফুল আলম ওরফে অপুর নেতৃত্বে চক্রটি গত ছয় মাসে ৫৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর গত ছয় মাসে শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। 

প্রতারক চক্রের হাত থেকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে ঢাকার গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে, বৈধ লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সেবা নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে থানায় মামলা বা অভিযোগ দিতে হবে। এছাড়া নিজের পাসপোর্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।