প্লট কিনে দেওয়ার নামে ৬ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, ব্যবসায়ী কারাগারে
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীর বিচার চেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করেছে একদল লোক।
ঢাকার উত্তরায় রাজউকের প্লট কিনে দেওয়ার নামে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
আগের দিন সোমবার মঞ্জুর-ই-এলাহীকে উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আমরা এর বিরোধিতা করি। পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাছির।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদী নাছিরের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় ছিল। তারা ঢাকায় জমি কেনাবেচার যৌথ ব্যবসা করতেন। উত্তরায় রাজউকের পাঁচ কাঠার একটি প্লট কিনতে বায়না ও রেজিস্ট্রির কথা বলে নাছিরের কাছ থেকে মঞ্জুর-ই-এলাহী ও অন্য আসামিরা ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেন।
অভিযোগে বলা হয়, সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি রাফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাফিন এবং মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহীর অনুকূলে কয়েক কোটি টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মিঞা, হাসনা হেনা ও আসিফ হাসান তুলিপসহ কয়েকজন নাছিরের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নেন।
নাছিরের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর থেকেই জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আসামিরা কালক্ষেপণ শুরু করেন। একপর্যায়ে ফোন ধরা বন্ধ করে তারা উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে তাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। সবশেষ ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর মামলা করেন নাছির। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি চলতি বছরের ৩০ জুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত।
মঞ্জুরুল আলমের বিচার চেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করেছে একদল লোক।
মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা হয়, ৪২ জনের কাছ থেকে মোট ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন মঞ্জুর-ই-এলাহী। অর্থ ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি তার বিচার দাবি করা হয় সেখানে।
