১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

তৃতীয় দিনের মত উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, যানজট

পুলিশ বলছে, টানা তিন দিন ধরে চলা শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে এই মহাসড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 12:56 PM

Updated : 15 Oct 2026, 12:56 PM

বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মত উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে পোশাক শ্রমিকরা।

ওই এলাকার বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক আটকে রাখে। ফলে বিমানবন্দর-আব্দুল্লাহপুর এলাকায় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ডিএমপি ট্রাফিক উত্তরা পশ্চিম জোনের সহকারী কমিশনার মাবিয়ান মিঞা জানান, সকাল সোয়া ৯ টার দিকে উত্তরার আজমপুর-রাজলক্ষ্মী এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে নামলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঘণ্টা তিনেক অবস্থানের পর বেলা ১২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে ফের যান চলাচল শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ থাকায় আশেপাশের এলাকাতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। তাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী ও পথচারীরা।

দীর্ঘ সময় বাসে অপেক্ষা করার পর অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা মাবিয়ান বলেন, "আমরা শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ থাকায় গাড়ির তীব্র জট তৈরি হয়েছে।

" শ্রমিকরা সরে গেলে সড়কের দুপাশেই যান চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ জটের কারণে গতি মন্থর, সেটি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।"

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, টানা তিন দিন ধরে চলা শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে এই মহাসড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তবে দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে শ্রমিকদের তরফে।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মজুরি বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দাবি আদায়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি, ফলে বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমেছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেছেন, তারাও বিষয়টির সুরাহা করতে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন।

"আজকের মত তারা সড়ক থেকে সরে গেছে, এখন রাস্তা ক্লিয়ার আছে। কিন্তু টানা সড়ক অবরোধের ফলে প্রতিদিন জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"