Published : 07 Aug 2025, 08:35 PM
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলার মধ্যে প্রায় সাত বছর আগে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে পুলিশের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলাটি বাতিল করেছে হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি তামান্না রহমানের বেঞ্চ এ রায় দেয়।
শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও আবদুল্লাহ আল নোমান। সঙ্গে ছিলেন আরেক আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের নভেম্বরে হাই কোর্টি মামলাটির তদন্ত স্থগিতের আদেশ দেয়। সেই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল হবে না জানতে রুল জারি করা হয়।
এদিন শুনানির পর রুল যথাযথ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত মামলাটি বাতিলের রায় দিল।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ ও ৪ অগাস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে এসেছিলেন শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।
এরপর ৫ অগাস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাগারে থাকার পর ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, শহিদুল আলম ‘কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার’ চালিয়ে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) ‘মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি’ দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
মামলায় বলা হয়, শহিদুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতিসহ জনমনে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নের’ জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন।
পরে মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন শহিদুল।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ রুলসহ আদেশ দেয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে গেলে ২০১৯ সালের ১৯ অগাস্ট সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রুলটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ ওই রুল খারিজ করে এবং তদন্ত কাজের ওপর স্থগিতাদেশ বাতিল করে রায় দেয়।
এরপর তিনি মামলার কার্যক্রম বাতিল (কোয়াশমেন্ট) চেয়ে হাই কোর্টে মামলা করেন।
পুরনো খবর: