তিন বিষয়ে গুরুত্ব ডিএনসিসি প্রশাসকের
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, দেয়ালে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি রক্ষা করা হবে। পোস্টার ব্যানার লাগালে জরিমানা করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ডিএনসিসি চালাতে গণতান্ত্রিক চর্চা, পরিবেশ এবং সমতা- এই তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাবে তার কাছে।
সোমবার গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, তিনি প্রত্যেকটি কাজে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান।
“প্রতিটি অ্যাকশনের মধ্যে আমরা ডেমোক্রেটিক প্র্যাকটিস রাখতে চাই। যে কারণে আমরা কয়েকটি কমিটি করে দিব, গণশুনানি, প্রতিটি এলাকায় পঞ্চায়েতের মতো একটা নেইবারহুড বা কমিউনিটি তৈরি যায় কি না সেই চিন্তা করছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেই তাদের স্থানীয় উন্নয়নকাজগুলো করা হবে।”
গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাপক রদবদলের মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ অগাস্ট ঢাকাসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
সেসময় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন।
ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আমরা সবার আগে পরিবেশকে গুরুত্ব দিব। খোলা জায়গা বাড়ানো আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
“গরীবের এলাকায় খোলা জায়গা কম, বড়লোকদের এলাকায় খোলা জায়গা বেশি। এটাও এক ধরনের বৈষম্য। বড়লোকদের এলাকায় বেশি অ্যালোকেশন হয়, গরীবদের এলাকায় কম, এটাও এক ধরনের বৈষম্য। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা উত্তরখানে ২২ শতাংশ জায়গায় কমিউনিটি সেন্টার এবং বাউনিয়ায় মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।”
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকায় ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের আবাসনের ন্যূনতম সুবিধা নাই। তাদের নিয়েও কাজ করতে হবে।
“তাদের হাউজিং, ইউটিলিটি, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা নাই। আমরা কিছু জায়গায় মডেল তৈরি করব।”
এক প্রশ্নে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “রাজপথ থেকে ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হবে। পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষেধ, এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেয়ালে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি রক্ষা করা হবে। পোস্টার ব্যানার লাগালে জরিমানা করা হবে।”
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলমসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
