১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, অধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন আহত

“ধারণা করছি, ওরা সবাই শিবিরের কর্মী,” বলেন আহত রাব্বি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 08:05 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজের পর রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে মাদ্রাসার সামনে এ সংঘর্ষে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

আহতদের মধ্যে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫২), আলিয়া শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন মোমিন (২৫), সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বিকে (২৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষক আলী হাসান হাসপাতালে  বলেন, “বিকাল ৫টার দিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ইট-পাটকেলের আঘাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক আহত হন। 

“পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য শিক্ষকরা মিলে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে এখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।”

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির রহমান বলেন, “বিকালে সানাউল্লাহ ও রাব্বি ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল রড, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।”

হামলায় সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। রাব্বির বাম পায়েও গুরুতর জখম হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিছার উদ্দিন রাব্বি বলেন, “আমরা ২-৩ জন বন্ধু শিক্ষা বোর্ডের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় কয়েকজন এসে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। 

“এতে আমি গুরুতর আহত হই। পরে বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। ধারণা করছি, ওরা সবাই শিবিরের কর্মী।”

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হলের সিট দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে বিকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কী কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি, তবে সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।”

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এখন থেকে ছাত্রশিবির নেই। তারা বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে।

এদিনই দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। পরে ঢাকা কলেজেও এ দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।