Published : 31 May 2026, 07:58 PM
সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করার কথা তুলে ধরে সফলভাবে সরকার পরিচালনায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার বিকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আজ সকলের (নেতা-কর্মী-সমর্থক) উদ্দেশে আমি বলব, আমাদের সামনে প্রথমত অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের সামনে একইসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন সময়ে আমাদের হেসে-খেলে চলে গেলে, খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
“ক্ষতি কার হবে? ক্ষতি আপনার হয়ত হবে না, ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমরা সে ধারায় চেষ্টা করছি দেশকে পরিচালনা করতে।”
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিটউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমাদের যে ইশতেহারের পক্ষে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে, সেই ইশতেহারের মধ্যে শহীদ জিয়ার প্রত্যেকটি পথনির্দেশিকা গ্রহণ করেছি।
“এখন সরকারের কাজ সরকার কাজ করবে। সরকার তখনই সফল হতে পারবে, যখন এই দলের কর্মী হিসেবে আপনি সরকারের প্রত্যেক সঠিক কার্যক্রমকে সহযোগিতা করতে থাকবেন। তখনই এই সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব।
“সংসদে আমাদের যে ২১৪ জন এমপি, আমিসহ যে ৫০ জন মন্ত্রী ক্যাবিনেট সদস্য আছেন, আমরা শুধু পরিশ্রম করলেই কিন্তু কার্যক্রমগুলো সফল হবে না। আপনাদের সকলের সহায়তা প্রয়োজন হবে।”
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এই ইশতেহার বা এই পরিকল্পনা এখন শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নয় বরং ৫২ শতাংশ মানুষ যারা ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের। রাজনৈতিক দলের সরকার হিসেবে এটি আমাদের পালন করতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এখানে আলোচনা করতে গিয়ে শুনেছি কীভাবে শহীদ জিয়া শিক্ষার প্রসার ঘটেয়েছিলেন, শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন জাতিকে। ঠিক তারই প্রতিফলন শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের ইশতেহারের মধ্যে আছে। এখানে বক্তারা আলোচনা করেছেন, কীভাবে পোশাক শিল্প নিয়ে গর্ববোধ করি। যে পোশাক শিল্প আমাদের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করছে তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল শহীদ জিয়ার সময়। ঠিক একইভাবে অর্থাৎ শিল্পের বিপ্লব রেখেছি এই ইশতেহারের মধ্যে।”
আবার শিল্পের প্রসার ঘটানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে সরকারের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঠিক একইভাবে শিল্পে বৈচিত্র্য আনার পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দেশে কী কী শিল্প গড়ে তোলা যায় সেসব পরিকল্পনা ইশতেহারে রাখা হয়েছে।
সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি একজন রাজনৈতিক (কর্মী)। আপনার যে সংগঠন আছে, যে রাজনৈতিক কার্যক্রম আছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আছে এই বিষয়গুলোকে সঠিক রাখার মাধ্যমে অর্থাৎ একজন রাজনৈতিক কর্মী। কাজেই আপনি রাজনীতি করার মাধ্যমেই দলকে সঠিক রাখবেন এবং দলকে সঠিক রাখার মাধ্যমেই সরকারকে সহযোগিতা করতে সক্ষম হবেন।”
দলের প্রতিষ্ঠাতার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আজকে আমরা শপথ গ্রহণ করতে পারি। কী সেই শপথ? আমরা আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে জনগণকে সাথে নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জনগণকে সাথে নিয়ে একটি সফল আন্দোলন করেছিলাম, ২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সফল নির্বাচন পার হয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ।
“আসুন সকলে মিলে চেষ্টা করি যে ইশতেহারের পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে সেই ইশতেহার বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে যাতে সফল সরকারের কার্যক্রম শেষ করতে পারি। তাহলেই একমাত্র ৩০ মে শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি।”
বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৮৬ সালের একটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, “এই ঘটনাটি ১৯৮৬ সালে আব্বা মারা যাওয়ার প্রায় ছয় বছর- সাড়ে পাঁচ বছর পরের ঘটনা। প্রথমবার আম্মার সাথে ওমরা করতে গিয়েছি। সৌদি সরকারের দাওয়াতেই গিয়েছিলাম। মক্কা হোটেল নামে একটা হোটেল ছিল ওখানেই সৌদি সরকার কম বেশি মোটামুটিভাবে অতিথিদের রাখতেন।
“মাগরিবের নামাজ শেষ করে এশার জন্য যাব তো আমি হোটেল রুমে এসেছি রিফ্রেশ হওয়ার জন্য। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি…অপেক্ষা করছি। আমার পাশে এসে আরেকটি লোক দাঁড়ালো। তো লোকটিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওর পোশাক দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ইন্দোনেশিয়ান, মালয়েশিয়ান হলেও হতে পারে। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায় ইন্দোনেশিয়ান। আমাকে বলল কোন দেশ, খুব সংক্ষেপে বলল। সে দুই সেকেন্ডের মধ্যে আমাকে বলল ‘ও বাংলাদেশ’, জিনিসটা রিকগনাইজ ওভাবে করলো না কিন্তু ওর সাথে সাথে বলল ‘ও জিয়াউর রহমান’। আমার নিজের সাথে ঘটনাটা ঘটল। ও বলল যে ‘জিয়াউর রহমান’। জিয়াউর রহমান বলতেই তারা বাংলাদেশ বুঝত, মুসলমান দেশগুলো জিয়াউর রহমান বুঝত। এটাও ছিল সন্তান হিসেবে আরেকটি অভিজ্ঞতা, যেখানে সন্তান হিসেবে পিতার জন্য আমি গর্ব অনুভব করেছি।”
তিনি বলেন, ‘‘এই কথাটা দিয়ে আজকে আপনারা এখানে যারা আছেন মিডিয়ার ক্যামেরা আছে নিশ্চই, এখানে লাইভ কানেকশনও আছে। এটা দিয়ে সংক্ষেপে বোঝাতে চাইছি সকলকে সেটি হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিল দেশ স্বাধীনের পরে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ভিক্ষের পরে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশকে এমন জায়গা নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ব দরবারে যে, মানুষ শহীদ জিয়া ও বাংলাদেশ এই দুইটিকে একসাথে বুঝতো।”
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য রাখেন।
সভায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।