Published : 17 Mar 2026, 07:28 PM
মাত্র নয় জন যাত্রী নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় বের হল সোনার বাংলা পরিবহনের বাসটি; গন্তব্য শেরপুর।
কিন্তু যাত্রী না থাকায় বাস ছাড়তে চালকের একরকম অনীহা দেখা গেল। বাসটি খুব ধীরে ধীরে এগিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মুখে দাঁড়াল। সেখানে হেলপার আবার যাত্রী ডাকাডাকি শুরু করলেন।
সেখানে থাকা পুলিশের দুজন সদস্য একরকম দৌড়ে গিয়ে বাসটিকে চলে যেতে তাড়া দিলেন। বাসের হেলপার বলতে থাকলেন, “স্যার নয়টা মাত্র প্যাসেঞ্জার, ওইদিকে আর পামু না।”
এ নিয়ে আধা মিনিট কথা-পাল্টা কথা চললো। এরপর ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে মোবাইল ফোন বের করে ছবি তুলতে উদ্যত হলে সামনে এগোতে শুরু করল গাড়ি।

মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রী নেই। কোনো কোনো বাসে অর্ধেকের বেশি সিট খালি।
চালকরা খালি নিয়ে যেতে চান না। তবে যানজট হওয়ার শঙ্কায় পুলিশ রীতিমতো তাদের খেদিয়ে মহাখালী এলাকার বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল।
রাজীব এন্টারপ্রাইজ বাসটি যাবে জামালপুর। কন্ডাক্টর বেলাল হোসেন বললেন, “এত কষ্ট কইরা মহাখালী বাস লাগাইলাম, এহন যাত্রী পাইছি ১৩টা। এই যাত্রী নিয়া গেলে ঈদের বাজারে পুষব?”
সামনে দিয়ে নেত্রকোণাগামী ভাটি বাংলা পরিবহনের একটি বাস প্রায় ফাঁকা অবস্থায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেল।
সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালেও তেমন ভিড় দেখা যায়নি। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, শ্যামলীর মত উত্তরবঙ্গের বড় অপারেটরগুলো মঙ্গলবার সকালে মোটামুটি ‘ফুল বুকিং’ নিয়ে গেলেও ছোট অপারেটরগুলো ভুগেছে যাত্রী খরায়। আমিনবাজার সেতুর ওপরে খালি গাড়ি রেখে যাত্রী ডাকাডাকি করতে দেখা যায় অনেককে।
কাউন্টারের কর্মীরা বলছেন, স্কুলগুলো অনেক আগে ছুটি হয়ে যাওয়ায় ভিড় এড়ানোর জন্য অনেকে পরিবারের শিশু ও নারীদের আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। ভিড় যা একটু হয়েছিল, সোমবার রাতে, অফিস ছুটি হওয়ার পর।

এরপর থেকে সব ফাঁকা ফাঁকা। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আবারও ভিড় বাড়বে বলে জানাচ্ছেন তারা।
অনলাইনের টিকিট প্ল্যাটফরমগুলোতে মঙ্গলবার রাতের অনেক টিকেট অবিক্রিত দেখা গেছে। ঠাকুরগাঁও, সিলেট বা চট্টগ্রামের মত অনেক গন্তব্যেই বাসের টিকেট অবিক্রিত পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৫টায় সহজ ডটকমে ঢুকে দেখা গেল, সিলেটের হানিফ, এনা, বিলাস পরিবহনের বাসে ২০ থেকে ৩৪টি পর্যন্ত সিট খালি।
চট্টগ্রাম রুটে এনা, শ্যামলী সেন্টমার্টিন (রবি) পরিবহনের প্রতিটি ট্রিপে একাধিক টিকেট অবিক্রিত দেখা গেছে।
আবার ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরের পথে নন এসি বাসগুলোর বুকিং প্রায় পূর্ণ হলেও প্রচুর এসি স্লিপার ও স্যুট ক্লাস বাসের টিকেট অবিক্রিত রয়ে গেছে। শেষ সময়ে টিকেটের দামও কমিয়েছে কোনো কোনো কোম্পানি।

কল্যাণপুরের গ্রামীণ ট্রাভেলসের কাউন্টারের ম্যানেজার মো. হাসান বললেন, “দিনের ট্রিপে যাত্রী কম। তবে সন্ধ্যার পর সব ট্রিপই ফুল।”
উত্তরবঙ্গ থেকে সকালে ঢাকায় আসা বাস চালকেরা বলছেন, এবার যানজট তেমন পোহাতে হয়নি। তবে ছোট অপারেটরগুলোর মধ্যে যাদের নিজস্ব পেট্রোল পাম্প নেই, তারা ভুগেছে তেল সংকটে।
গাইবান্ধা থেকে আসা সৈকত পরিবহনের চালক মোরসালিন বলেন, “এবারে রাস্তায় ঝামেলা (যানজট) তেমন নাই। তবে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”

এই চালক বলেন, “সোমবার দুপুরে ট্রিপ নিয়া গেছি। গিয়া দেখি গাইবান্ধাত তেল নাই। পলাশবাড়ীর একটা পাম্পে এক ঘণ্টা যুদ্ধ করিয়া তেল পালাম। ওই দিয়া ঢাকায় আসছি।”
জানতে চাইলে এই চালক বলেন, “গাইবান্ধা থাকি আইসলাম তো ফাঁকা। এখন যাওয়ার বুকিংও খুব ভালো না। ঈদের বাজার একদম ড্যাম।”