Published : 03 Feb 2026, 07:32 PM
পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালত চত্বরে বলেছেন, ‘সন্দেহের কারণে’ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত চত্বরে মাইক্রোবাস থেকে নেমে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দোয়া করবেন, দোয়া চাই। যদি অন্যায় করি বিচার হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, “বাবা দুর্নীতি করেছে এটা বলিনি। বলেছি, যদি বাবার অবৈধ সম্পত্তি খুঁজে পায় বিচার হবে।
“বাবার ছেলে হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর বাইরে আর কিছু না। তদন্ত হচ্ছে। যদি কোনো বেআইনি সম্পত্তি খুঁজে পায়, বিচার হোক আমার কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, কত টাকার দুর্নীতি করেছে। দোয়া করবেন।”
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলা চার দিনের রিমান্ড শেষে সিয়ামকে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে তোলা হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম জামিন আবেদন করে বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য রাখার প্রার্থনা করেন।
আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম।
গত ২৬ জানুয়ারি সিয়ামের চার দিনের রিমান্ড আদেশ দিলে সেদিন প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সিয়াম বলেন, “৩৫ লাখ টাকা সম্পত্তি বাপ আমারে দিছে। একটা গাড়ি, একটা জায়গা দিছে। ৮ লাখ টাকার জায়গা আর ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। আমি কি কামাইছি? বাপে আমারে দিছে।
“এটার জন্য আমি কীভাবে দুদকের মামলার অন্তর্ভুক্ত হলাম। আমার বাবার রিমান্ড চলতেছে। দেখা করতে গেছিলাম, ধরে নিয়ে আসছে। দুদক থেকে চার্জশিট দিক। কয় টাকার দুর্নীতি করছে বিচার করুক, আমার সমস্যা নাই তো।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে, সেটার বিচার হবে- আমার সমস্যা নাই তো। সে আমাকে জায়গা দিছে, এটার জন্য কি আমি জেল খাটব? আর ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?”
সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।