Published : 18 Jun 2026, 07:03 PM
নিরাপত্তার বলয় যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আমার একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির কথা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করতে চাই। সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা।
“নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি বিশেষায়িত ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।”
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মানজনক আচরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন।”
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা রাখছি।”

এসএসএফের মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসএসএফকে কাজ করতে হয়।
“আমি মনে করি, সমন্বয় যত দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা এবং তার মৃত্যুর পর জানাজার আয়োজনের সময় এসএসএফের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং জীবনের শেষ সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।”

বর্তমান সময়ের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এসএসএফের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত রেখেছেন। এ কারণে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বদলে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল কাজ। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা এবং নাগরিক জীবনের স্বাভাবিকতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজাতে হয়।
অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নতুন ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি প্রদর্শনী মহড়া দেখেন।
তিনি বলেন, “পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।”

এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহিনুল হক, চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মতিউর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।