Published : 28 Oct 2025, 06:26 PM
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত সংখ্যক বডি-ওর্ন-ক্যামেরা কেনার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ডিসেম্বরের মধ্যেই বডি-অন-ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যাতে নির্বাচনকালীন সময়ের সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এ নির্দেশনার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়ক হিসেবে ৪০ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা (বডিক্যাম) কেনার সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গেল ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, “জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশদের জন্য বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে। ৪০ হাজারের অধিক বডি ক্যামেরার জন্য প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা এটা অনুমোদন করেছি।”
বডি ক্যামেরা কেনার খরচ সম্পর্কে কিছু না বললেও তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির মাধ্যমে এগুলো কেনা হবে।
যমুনায় বৈঠকে সরকারপ্রধান বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। ভোটারদের মধ্যে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা অনুভব করেন যে নির্বাচনের জন্য একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিস্থিতি অবনতির কোনো সুযোগ কেউ না পায়।”
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ বডি-ওর্ন-ক্যামেরা মজুত রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নতুন ক্যামেরাগুলো এসে পৌঁছলে প্রতিটি জেলায় পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
বডি-ওর্ন-ক্যামেরার সাহায্যে নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের পাশাপাশি প্রতিটি থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকেও তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, বলেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আগের খবর: