Published : 22 Dec 2025, 09:08 PM
কাগুজে কোম্পানি খুলে ৮১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক রন হক সিকদারসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হকের নামও রয়েছে।
সোমবার মামলা অনুমোদন হওয়ার তথ্য জানিয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় দুই গ্রাহকের কাগুজে কোম্পানির নামে ঋণ অনুমোদন দেখিয়ে ৮১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আনা হচ্ছে।
কোম্পানি দুটি হলো- ব্যাংকটির দিলকুশা শাখার গ্রাহক ‘মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেড’ এবং গুলশান করপোরেট শাখার গ্রাহক ‘স্মার্ট ব্যাটারি টেকনোলজি লিমিটেড’।
আক্তার হোসেন বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণের অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলাটি করবেন দুদকের উপপরিচালক আফরোজা হক খান।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে জড়িত রয়েছেন। তারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে ‘মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেড’ নামের কাগুজে কোম্পানির পক্ষে জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। এর মাধ্যমে ওই কোম্পানির পরিচালক মো. মনসুর আলী ও সিইও সৈয়দ মাহতাব উদ্দিন মাহমুদকে ঋণ সুবিধা দিতে সহায়তা করা হয়।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক আরও বলছে, কোম্পানিটিকে দেওয়া ঋণের ৪০৩ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। বর্তমানে ব্যাংকের কাছে কোম্পানিটির দেনার পরিমাণ ৬৪৭ কোটি টাকা। এই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ সমন্বয়, প্রকৃত সুবিধাভোগীকে আড়াল করা এবং নগদ উত্তোলনের ভুয়া দেখিয়ে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে গোপনে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের তালিকায় রযেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মনোয়ারা সিকদার, পারভীন হক সিকদার, খলিলুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. আনোয়ার হোসেন, মাবরুর হোসেন, জাকারিয়া তাহের ও মো. বদিউল আলম।
ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শামীম আরা হক, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিরুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া, সাবেক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট চন্দন কুমার দাস, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মুন্সী সরোয়ার জান, হাসিনা সুলতানা ও মোহাম্মদ আবু রাশেদ নোয়াব, সাবেক ইভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. একরামুল হক, সাবেক এসএডিপি এটিএম এমাদুল হক, সাবেক ডিএমডি সৈয়দ রইস উদ্দিন, সাবেক এএমডি এ এস এম বুলবুল, সাবেক এমডি এমএ ওয়াদুদ ও চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ এবং সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাবিবুর রহমান।
এছাড়া মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেডের পরিচালক মো. মনসুর আলী ও একই কোম্পানির সিইও সৈয়দ মাহতাব উদ্দিন মাহমুদকে।
মাহিম রিয়েল এস্টেট ও মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক এবং প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হককেও এ মামলার আসামি করা হচ্ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সাল থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) পরিচালনা পর্ষদে নিয়ন্ত্রণ ছিল সিকদার পরিবারের।
দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার ২০২১ সালে মারা যান।
তার পর সিকদার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাদের জেরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক, ইউসিবির সঙ্গে এনবিএলকে একীভূত করার আলোচানা শুরু হয়।
অগাস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়, তখন পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী এস আলমের হাতে।
পরে এ ব্যাংকের পুরনো উদ্যোক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন।